বরাক তরঙ্গ, ৬ জুলাই, সোমবার,
বদরপুর রেল ক্রসিং সংলগ্ন সড়কের পাশে দিনের পর দিন জমে থাকা আবর্জনার স্তূপ এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন, যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। রেলগেট বন্ধ থাকলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। সেই সময় আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে যাত্রী ও চালকদের দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে সেখানে এক মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। জানা গেছে, এই আবর্জনা বদরপুর পুরসভার সংগ্রহ করা বর্জ্য। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—শহরকে পরিষ্কার রাখার নামে জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কার অনুমতিতে এই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে?
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, রাস্তার ঠিক বিপরীত দিকেই রয়েছে বদরপুর সার্কেল অফিস এবং জলসম্পদ বিভাগের কার্যালয়। এত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের সামনে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকা প্রশাসনিক উদাসীনতারই পরিচয় বহন করে। অথচ জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে প্রশাসনের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।
পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যুগে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবর্জনা ফেলে রাখা শুধু পরিবেশের জন্য নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
এখন সময় এসেছে বদরপুর পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার। অবিলম্বে ওই স্থান থেকে আবর্জনা অপসারণ, বিকল্প বৈজ্ঞানিক বর্জ্য নিষ্পত্তির ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। জনগণের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং বদরপুরবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে।



