মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ জুলাই : ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ১৯৮৬ সালের ২১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত ভাষা শহিদ জগন যিশুকে গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করল করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস ও বিভিন্ন ব্লক কংগ্রেস কমিটি। মঙ্গলবার করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস কার্যালয় ইন্দিরা ভবনের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক স্মরণসভায় ভাষা শহিদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভাষা শহিদদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় এবং তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শম্ভুসাগর পার্কস্থিত স্থায়ী শহিদ বেদীতে গিয়ে মাল্যদান করেন এবং ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ভাষা শহিদ জগন যিশুর আত্মত্যাগ কেবল একটি আন্দোলনের ইতিহাস নয়, বরং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। তাঁর আত্মদান আগামী প্রজন্মকে ভাষা, সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে। বক্তারা আরও বলেন, ভাষা শহিদদের ত্যাগকে স্মরণে রেখে ভাষাগত সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন অনুরাগ দত্ত, দুলন পাল, শুভঙ্কর দাস, নেতাই রায়, প্রদীপ কুরি, ধ্রুবজ্যোতি দাস, রানা আচার্য, মনোজ দে, জয়ন্তিকা সেন (টিনা), বুলা দাস, তপশ চক্রবর্তী, ফটিক বণিক, গৌতম কর, জয়দীপ দাস, বিশ্বজিৎ দে (বিশ্ব দে), শঙ্কর দাস, সুবোধ দে, স্বপন দেব এবং রনি দাসসহ জেলা ও ব্লক কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মী।
করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান সাহাদত আহমদ চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং তাঁদের আদর্শকে স্মরণে রাখার লক্ষ্যেই এই স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ভাষা শহিদ জগন যিশুর আত্মত্যাগ বাঙালি সমাজের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর স্মৃতি সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রেরণা জোগাবে।



