৬ সেপ্টেম্বর : উত্তর সিকিমে ফের বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পড়ায় তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর জলপ্রবাহে সাময়িকভাবে তীব্র বাধা সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবারের ভোরের মধ্যে এই ভয়াবহ ধস নামে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে। যেহেতু উত্তর সিকিমে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পর্যটক বেড়াতে যান, ফলে পুজোর প্রাক্কালে এই ঘটনা বাংলার পর্যটক মহলেও বিশেষ তাৎপর্য ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে চিয়াকুং নদীর উপরে, ওসি ভিরের বিপরীতে এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। চুংথাং সাব-ডিভিশন পুলিশ এবং জেলা পুলিশের কাছ থেকে এই জরুরি খবর পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে মাঙ্গন জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, নাগা ফরেস্ট এলাকার নাগা-তোসা রোডের নতুন রাস্তা কাটার সংলগ্ন অংশে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এলাকাটি মূলত থেং টানেলের বিপরীতে অবস্থিত। ধসের এই স্থানটি তিস্তা এবং চিয়াকুং নদীর সঙ্গমস্থলের অত্যন্ত কাছে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দুই নদীর জলপ্রবাহেই এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধসের জেরে তিস্তা নদীর জল কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং নদীর দু’পাশে জল জমতে শুরু করে। পাশাপাশি, চিয়াকুং নদীতেও জল আটকে যায়। তবে বর্তমানে তিস্তার জলপ্রবাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও দুই নদীই এখনও পর্যন্ত আংশিক ভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্বস্তির বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত এই আকস্মিক ধসের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা কারও জখম হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধসের জেরে সম্পত্তির বা পরিকাঠামোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে পুলিশ। চুংথাং সিপি/থানার ওসি এবং থেং সিপি-র পুলিশকর্মীরা নিয়মিত ঘটনাস্থলে থেকে নজরদারি চালাচ্ছেন এবং নদীর জলস্তরের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, শঙ্কালাং ওপেন পোস্ট এবং ফিদাং ওপেন পোস্ট এলাকায় আপাতত নদীর জলস্তর স্বাভাবিক থাকলেও জলের রঙ সম্পূর্ণ ঘোলা হয়ে গিয়েছে। ওই দুই জায়গাতেও জলস্তরের ওপর নিয়মিত নজর রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি জলের সামান্য পরিবর্তন হলেও তা দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



