বরাক তরঙ্গ, ৮ জুন : সোমবার ভোরে ডিব্ৰুগড় শহরে এক চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া এক তরুণীকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তিনসুকিয়া রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিব্ৰুগড় শহরের শান্তিপাড়া এলাকার পিএন রোডে সোমবার সকালে মায়ের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন ওই তরুণী। অভিযোগ, মায়ের কিছুটা পেছনে হাঁটার সময় পিছন থেকে এসে দুর্বৃত্তরা তাঁর নাকে কোনও অজ্ঞানকারী পদার্থ প্রয়োগ করে। এরপর তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই পরিবারে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও তরুণীর কোনও সন্ধান পাননি।

এদিকে, তিনসুকিয়া রেলস্টেশনের একটি প্ল্যাটফর্মে পড়ে থাকা একটি সন্দেহজনক বস্তা দেখতে পান কয়েকজন যাত্রী। বস্তাটি পরীক্ষা করে তার ভেতরে এক অচেতন তরুণীকে দেখতে পেয়ে তাঁরা রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেন। জানা যায়, বস্তার ভেতরে তরুণীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় এবং পরে তাঁকে ডিব্ৰুগড় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
উদ্ধার হওয়ার পর তরুণী জানান, “আমি বাড়ির কাছেই সকালে হাঁটছিলাম। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ আমার নাকে কিছু লাগিয়ে দেয়। এরপর আমি আর কিছুই বুঝতে পারিনি। আমার মুখে কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, হাত-পাও বাঁধা ছিল। কে আমাকে নিয়ে গিয়েছিল, তা বুঝতে পারিনি।”
তরুণীর মা বলেন, “ও আমার পেছনেই হাঁটছিল। হঠাৎ দেখি রাস্তায় আর নেই। আমরা সব জায়গায় খোঁজ করেছি, কিন্তু পাইনি। পরে পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারি, তিনসুকিয়া থেকে ওকে উদ্ধার করা হয়েছে। কে বা কেন ওকে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।”
উদ্ধার হওয়া তরুণীকে ডিব্ৰুগড় সদর থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ডিব্ৰুগড় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনও বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে তরুণীকে অপহরণ করেছিল, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।



