বরাকের উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পদক্ষেপের দাবি বিডিএফের, নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের অভিনন্দন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৮ জুন : অসমের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বরাক উপত্যকা থেকে স্থান পাওয়া বিধায়ক কৌশিক রায় ও কৃষ্ণেন্দু পালকে অভিনন্দন জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। একইসঙ্গে উপত্যকার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানে অগ্রাধিকারভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার এক প্রেস বিবৃতিতে বিডিএফের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে কোনও বাঙালি কিংবা ঐতিহ্যবাহী শিলচর শহরের বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় স্থান না দেওয়া নিয়ে কিছু বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হলেও বর্তমানে বরাকের উন্নয়নমূলক বিষয়গুলোকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ভারি বর্ষণে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম বন্যা এবং রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ফলে এ দুটি সমস্যা সমাধানে বরাকের নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। শিলচর ও করিমগঞ্জ শহরের নিকাশি খাল সংস্কারের কাজ যাতে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় তদারকির আহ্বান জানান তিনি।

জয়দীপ ভট্টাচার্য আরও বলেন, অতীতে নির্ধারিত নীতিমালা উপেক্ষা করে রাস্তা নির্মাণের ফলে বর্তমানে বহু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিলচরের ক্যাপিটাল পয়েন্ট থেকে মেডিক্যাল কলেজ পর্যন্ত সড়কের বেহাল দশার কারণে সাধারণ যাত্রী ও রোগীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে সড়কটি সচল রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে স্বচ্ছ ও জনমুখী পদ্ধতিতে সংস্কারকাজ পরিচালনার পরামর্শ দেন।

এদিকে বিডিএফের আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শিলচরের প্রস্তাবিত উড়ালসেতুর শিলান্যাস করলেও পরবর্তীতে বিষয়টি আর অগ্রগতি পায়নি। বর্তমানে শহরের যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং ব্যস্ত সময়ে স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করতেও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই উড়ালসেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার জন্য বরাকের মন্ত্রী ও বিধায়কদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। হৃষীকেশ দে আরও বলেন, পাঁচগ্রাম কাগজকলের পরিত্যক্ত জমিতে শিল্পকেন্দ্র গড়ে তোলার যে পরিকল্পনা রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, তা বাস্তবায়নও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় একটি এমএসএমই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নয়, ওই এলাকায় পূর্ণাঙ্গ শিল্প ও বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তুললে নতুন বিনিয়োগ এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা বরাকের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিডিএফের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর, প্রস্তাবিত হাই-স্পিড এক্সপ্রেস করিডর, চন্দ্রনাথপুর-লঙ্কা রেললাইন, মাল্টিমোডাল লজিস্টিক পার্ক, শিলচর মেডিক্যাল কলেজের আধুনিকীকরণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নসহ একাধিক দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ মহলে চাপ সৃষ্টি করা নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও বিধায়কদের অন্যতম দায়িত্ব। পাশাপাশি বরাকের ভাষা শহিদদের স্বীকৃতি এবং ভাষা শহিদ স্টেশনের নামকরণ সংক্রান্ত দাবিগুলিও ঐক্যবদ্ধভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার বরাক উপত্যকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে। এই সুযোগের যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে পারলে জনগণ ও ইতিহাস তাঁদের অবদান স্মরণে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা। বিডিএফের আহ্বায়ক দেবায়ন দেব এক প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *