খামেনির জানাজা ও দাফন ঘিরে তেহরানে ব্যাপক প্রস্তুতি, শোকে স্তব্ধ ইরান

Spread the news

৩ জুলাই : ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পুরো রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার খামেনির মরদেহবাহী কফিনটি মধ্য তেহরানের সেই স্থানে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। পূর্বঘোষণা ছাড়াই আয়োজিত এই শোকযাত্রায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে কফিনটি শাহাদাতের স্থানে নেওয়া হয়। এই শোভাযাত্রাকেই আসন্ন রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত মানুষকে জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি হাতে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। আবেগঘন পরিবেশে অনেকেই অশ্রুসিক্ত চোখে প্রার্থনা করেন এবং প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানানো হবে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষের তেহরানে আসার প্রস্তুতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

খামেনির আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। কফিনের ওপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে লাল রঙের একটি পতাকা, যা শিয়া ঐতিহ্যে আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই প্রতীকী আয়োজনের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নেতার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *