শিলচর শহরে ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রবণতা বাড়ছে বাইক-অটোর, ডেকে আনতে পারে বিপদ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার,
হরের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক আইন ও নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও শিলচর শহরে দিনের পর দিন বাড়ছে আইন অমান্যের প্রবণতা। নিয়ম ভাঙার এই সংস্কৃতি শুধু প্রশাসনের প্রতি অবজ্ঞাই প্রকাশ করছে না, একই সঙ্গে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের যাত্রীদের জীবনকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটার পরই কি আমাদের টনক নড়বে?
শিলচর শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ওয়ানওয়ে হিসেবে নির্ধারিত। অথচ সেই নির্দেশিকাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রতিদিনই অবাধে বাইক ও অটো চলাচল করতে দেখা যায়। শিলংপট্টি-প্রেমতলা সড়কটি ওয়ানওয়ে হওয়া সত্ত্বেও বিপরীত দিক থেকে বাইক চলাচল যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অনেক সময় অটোকেও একইভাবে চলতে দেখা যায়। ব্যস্ত শহরের রাস্তায় এ ধরনের বেপরোয়া চলাচল যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

শুধু ওয়ানওয়ে আইন নয়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নির্দিষ্ট যানবাহনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার নির্দেশিকাও উপেক্ষিত হচ্ছে। দেবদূত পয়েন্টের সামনে স্পষ্টভাবে অটো ও ই-রিকশার প্রবেশ নিষিদ্ধ লেখা সাইনবোর্ড রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে প্রায়ই অটো ও ই-রিকশাকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। আরও উদ্বেগের বিষয়, অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেও এই নিয়মভঙ্গ অব্যাহত থাকে।

এখানেই প্রশ্নটা আরও গুরুতর। ট্রাফিক আইন কার্যকর করার দায়িত্ব যাঁদের ওপর, তাঁদের চোখের সামনে যদি নিয়ম ভাঙা হয় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে আইন মানার প্রবণতা সাধারণ মানুষের মধ্যে কীভাবে তৈরি হবে? পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা বা উদাসীনতা আইনভঙ্গকারীদের আরও উৎসাহিত করে। ফলে ধীরে ধীরে নিয়ম ভাঙাটাই যেন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ায়।

তবে সমস্যার সমাধান কেবল ট্রাফিক পুলিশের ওপর দোষ চাপিয়ে হবে না। যানবাহন চালকদেরও নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কয়েক মিনিট সময় বাঁচানোর জন্য ওয়ানওয়ে অমান্য করা কিংবা নিষিদ্ধ পথে গাড়ি নিয়ে যাওয়া কখনওই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি ছোট ভুলের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা আমাদের সকলের মনে রাখা জরুরি।

শিলচরের ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে নিয়মিত নজরদারি, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। পাশাপাশি, কোথায় কী ধরনের নির্দেশিকা রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও করতে হবে।

দুর্ঘটনা ঘটার পর তদন্ত, ক্ষতিপূরণ ও দায় নির্ধারণের চেয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এখনই সতর্ক হওয়া দরকার। ট্রাফিক আইন কোনও আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি মানুষের নিরাপত্তার জন্য তৈরি। পুলিশকে আরও কঠোর ও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, আর নাগরিকদেরও আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। নইলে নিয়মভাঙার এই প্রবণতা একদিন শিলচর শহরের রাজপথে বড় কোনও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *