বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট, সোমবার,
আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য শুধু এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পণ্য পরিবহণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আঞ্চলিক অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাজারব্যবস্থা এবং হাজার হাজার মানুষের জীবিকা। ফলে বৈধ নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় চালান নিয়ে পণ্য পরিবহণকারী বাণিজ্যিক ট্রাক চালকদের হয়রানির অভিযোগ নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। মিজোরাম অভিমুখী ট্রাক চালকদের ঘিরে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তাকে শুধুমাত্র পরিবহণ-সংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আইনের শাসন, আন্তঃরাজ্য সম্পর্ক এবং প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন।
চালকদের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র ও পণ্যবাহী চালান থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের নামে ট্রাক থামিয়ে চেকিং, অর্থ দাবি, হেনস্থা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা অবশ্যই প্রশাসনের দায়িত্ব। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ কোনও বেসরকারি সংগঠন, ছাত্র সংগঠন কিংবা স্থানীয় গোষ্ঠীর সরকারি ক্ষমতার বিকল্প হিসেবে কাজ করার অধিকার নেই। পণ্যবাহী যান আটকানো, চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা কিংবা অর্থ দাবি করার মতো কাজ আইনানুগ কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে হলে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তবে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে জাতীয় সড়ক অবরোধ বা অনির্দিষ্টকালের ‘স্টিয়ারিং ছোড়ো’ আন্দোলনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। প্রতিবাদের অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু সেই প্রতিবাদের কারণে ব্যবসায়ী কিংবা অন্য পণ্য পরিবহণকারীদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে সমস্যার পরিধি আরও বাড়ে। দীর্ঘ সময় ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাদ্যসামগ্রী, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ক্ষোভের কারণ যুক্তিসঙ্গত হলেও আন্দোলনের পদ্ধতিও জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে নির্ধারণ করা জরুরি।
অসম ও মিজোরাম সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনায় বসে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা। প্রয়োজন হলে যৌথ প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে, যাতে সীমান্তবর্তী সড়কপথে বাণিজ্যিক যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে এবং কোনও বেসরকারি গোষ্ঠী বেআইনিভাবে হস্তক্ষেপ করতে না পারে। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশ করতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেমন জরুরি, তেমনই মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর অভিযোগের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।



