বরাক তরঙ্গ, ২৪ আগস্ট, সোমবার,
মাদকের কারবারকে এতদিন অনেকেই পেটের দায়ে অপরাধের পথে পা বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত করে দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সেই ধারণা বদলে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ তৈরি হয়েছে। এখন শুধু আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষ নয়, সচ্ছল এবং সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের একাংশও দ্রুত ধনী হওয়ার লোভে মাদক পাচারের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। দক্ষিণ কৃষ্ণপুর ও ধলাইয়ে সম্প্রতি ধরা পড়া দুটি পরিবারের ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই অপরাধের সঙ্গে কখনও কখনও পরিবারের একাধিক সদস্যও জড়িয়ে পড়ছেন। অর্থাৎ মাদকের বিষাক্ত ব্যবসা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপন্ন করছে না, ধীরে ধীরে গ্রাস করছে গোটা পরিবারকে। সামাজিক পরিচিতি, মান-সম্মান কিংবা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভুলে অল্প সময়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের নেশা অনেককেই বিবেকবোধ বিসর্জন দিতে বাধ্য করছে। অথচ সহজে ধনী হওয়ার এই বিষাক্ত লোভ শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পাশাপাশি সমাজের ভিতকেও দুর্বল করে তুলবে।
মাদক কারবারে বিপুল লাভের সুযোগ থাকায় মূল সরবরাহকারীরা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত কেউ এই কাজে যুক্ত থাকলে তার প্রতি সন্দেহ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। ফলে তাদের ব্যবহার করে পাচারের পথও অনেক সময় সহজ হয়ে যায়। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, বাহক কিংবা স্থানীয় কারবারি ধরা পড়লেও নেপথ্যের মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।
তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইকে শুধু গ্রেপ্তার ও উদ্ধারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। তদন্তের পরিধি আরও গভীরে নিয়ে গিয়ে চিহ্নিত করতে হবে মাদকের মূল সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের সংগঠিত চক্রকে। কারা এই ব্যবসার অর্থ জোগাচ্ছে, কারা পরিবহণ ও পাচারের ব্যবস্থা করছে এবং কারা লাভের বড় অংশ হাতিয়ে নিচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক পরিচিতি বা আর্থিক সচ্ছলতার কারণে কাউকেই যেন আইনের নজরদারির বাইরে রাখা না হয়।
মাদকের বিস্তার কোনও একটি পরিবারের অর্থনৈতিক বা সামাজিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, শিক্ষাব্যবস্থা, জননিরাপত্তা এবং সামগ্রিক সামাজিক পরিবেশের ওপর। একটি পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়লে তার অভিঘাত বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।



