১৭ এপ্রিল : সংসদের বিশেষ অধিবেশনে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্র। প্রবল বিতর্কের পর লোকসভায় ভোটাভুটিতে পাস হতে ব্যর্থ হল ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম)। আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণকে একই বিলে জুড়ে দেওয়ার সরকারি কৌশলের বিরোধিতায় একজোট হয়ে রুখে দাঁড়াল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করতে পারেনি বিজেপি সরকার। বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮ ভোট বিলের বিপক্ষে পড়ে ২৩০ ভোট। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটদানে অংশ নেন
কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা এই বিলের মূল লক্ষ্য ছিল, লোকসভার (Lok Sabha) আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। কিন্তু বিরোধীদের আপত্তির মূল জায়গা ছিল দু’টি পৃথক বিষয়কে মিলিয়ে দেওয়া। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবদের দাবি, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস করে উত্তর ভারতের আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের প্রভাব খর্ব করতে চাইছে বিজেপি। রাহুল গান্ধী সরব হন ওবিসি মহিলাদের অধিকার নিয়ে। তাঁর অভিযোগ, সরকার আসলে ওবিসি এবং দলিতদের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
ভোটাভুটির আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah) বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন আসন আছে যেখানে ৪৮ লক্ষ ভোটার, সেখানে সাংসদের পক্ষে কাজ করা অসম্ভব।’ অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে সাংসদদের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যাতে চার দশকের বঞ্চনা ঘুচিয়ে মহিলাদের অধিকার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর আবেগঘন আবেদন কিংবা অমিত শায়ের আক্রমণ— কোনওটিই বিরোধীদের অবস্থানে চিড় ধরাতে পারেনি। ফলে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস ও মহিলা সংরক্ষণের এই মেগা পরিকল্পনা আপাতত বিশ বাঁও জলে।



