বরাক তরঙ্গ, ১ অক্টোবর : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচরের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে ‘টেকসই উদ্যোক্তা: মাশরুম চাষ ও ভাসমান বেড কৃষি’ শীর্ষক একটি দক্ষতা-ভিত্তিক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে টেকসই কৃষি, বিকল্প উদ্যোক্তা এবং আত্মনির্ভরশীল জীবিকার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোজাইয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রামীণ প্রযুক্তি উদ্যান ও ইনকিউবেশন কেন্দ্রের পরিচালক ড. ধন্বন্তরী এল. সিংহ। তিনি মাশরুম চাষকে স্বল্প বিনিয়োগে শুরু করা সম্ভব এমন একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন। আয় সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষিজ অবশিষ্টাংশকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও মাশরুম চাষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জলাবদ্ধ ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় কৃষিকাজের জন্য ভাসমান বেড পদ্ধতির গুরুত্বও তুলে ধরেন ড. সিংহ। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য সম্পদ কাজে লাগিয়ে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরির জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. অসীম দাস অষ্টপতি, বরিষ্ঠ অধ্যাপক ড. মধুমিতা দে, বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্নাতকোত্তর প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আমিশা সিংহ। শুরুতে ঋতুপর্ণা ভট্টাচার্যের পরিবেশনায় উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশিত হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন ড. অসীম দাস অষ্টপতি।
প্রাণবন্ত ও আন্তঃক্রিয়ামূলক এই অধিবেশনে শিক্ষার্থীরা বিকল্প উদ্যোক্তা ক্ষেত্র এবং টেকসই কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। এদিন বিভাগের পক্ষ থেকে পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রস্তুত করা দেওয়াল পত্রিকা ‘বোটানিকা’ প্রকাশ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উদ্ভিদবিদ্যা-সংক্রান্ত জ্ঞান এবং বিভিন্ন বিদ্যায়তনিক আগ্রহের প্রতিফলন ঘটে।
অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ইউনিকি এল. কুংগাতে। বিভাগের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা মানসিকতা গড়ে তোলা এবং টেকসই চর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনুষ্ঠানে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।



