মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ আগস্ট : চা-বাগানের সবুজ মাঠে টানটান উত্তেজনা, দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর দুই দলের দুর্দান্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাথিনী টি-ই প্লেগ্রাউন্ডের বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল প্রতিযোগিতা। রবিবার অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ফাইনালে জালালনগরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা অর্জন করে বাংলাথাল দল।
খেলার নির্ধারিত সময়ে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ফলাফল গড়ায় টাইব্রেকারে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারে ১–০ গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাথাল দল।
ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই পাথিনী টি-ই ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ মাঠে এসে ভিড় জমান। খেলা শুরু হতেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল নিয়ে মাঠে নামে। মাঝমাঠে বল দখলের লড়াই, দ্রুত পাস এবং একের পর এক আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে ওঠে। দর্শকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মাঠ।

শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে পিছনে ফেলে জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাথাল। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় আনন্দ-উল্লাস। অন্যদিকে পরাজিত হলেও জালালনগর দলের লড়াকু পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। ফাইনাল শেষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসম সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি বিজয়ী বাংলাথাল দলের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন এবং খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি ফাইনালে অংশ নেওয়া জালালনগর দলের খেলোয়াড়দেরও অভিনন্দন জানান তিনি।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল বিনোদনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের নির্ভরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ফুটবল ও অন্যান্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতা তরুণদের মাঠমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। খেলাধুলা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত সহযোগিতা, আত্মবিশ্বাস ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার মানসিকতা গড়ে তোলে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রবিবার পাথিনী টি-ই-তে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাথাল, তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় জয় ছিল ফুটবলের—জয় হয়েছে খেলাধুলার, সম্প্রীতির এবং তরুণদের স্বপ্নের।



