বরাক তরঙ্গ, ২৩ আগস্ট : রাইজর দলের সভাপতি তথা শিবসাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অখিল গগৈকে শারীরিকভাবে আক্রমণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি বিধায়ক ময়ূর বরগোহাঁইয়ের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে শিবসাগর সদর থানায় তিনটি পৃথক এজাহার দাখিল করা হয়েছে। অখিল গগৈ ও তাঁর দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এজাহারগুলি দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাইজোর দলের সঙ্গে যুক্ত সন্দীপ গগৈ ও বিশ্ব দাস পৃথকভাবে দুটি এজাহার দায়ের করেছেন। অন্য এজাহারটি করেছেন কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা বিদ্যুৎ শইকিয়া।
অভিযোগকারীদের দাবি, সম্প্রতি শিবসাগরে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিধায়ক ময়ূর বরগোহাঁই অখিল গগৈকে নিয়ে হিংসাত্মক ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। তিনি অহিংসায় বিশ্বাস করেন না বলেও মন্তব্য করে গগৈকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই বক্তব্যের পর অখিল গগৈয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বিধায়ক ময়ূর বরগোহাঁইয়ের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, অখিল গগৈ দীর্ঘদিন ধরেই ময়ূর বরগোহাঁইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ কয়লা ও পাথর খননের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করে আসছেন। তাঁর দাবি, উজানি অসমে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যার অন্যতম কারণ এই অবৈধ খনন।
রবিবার চরাইদেউ জেলার সোনারিতে কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির উদ্যোগে একটি বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বন্যার পরও সরকারি ত্রাণ থেকে বঞ্চিত বহু মানুষ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় অখিল গগৈ এবং রাইজোর দলের নেত্রী ড. জ্ঞানশ্রী বরা সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বন্যাদুর্গতদের সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে বলেও তাঁরা জানান।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অখিল গগৈ বলেন, ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যায় সর্বস্ব হারানো মানুষদের তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে সরকার ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করলেও এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও বহু মানুষ সেই অর্থ পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
গগৈ আরও জানান, চরাইদেউ, শিবসাগর ও জোরহাট জেলার ত্রাণবঞ্চিত মানুষদের একত্রিত করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাইজোর দল। তাঁর অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের ঘোষিত ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বন্যাদুর্গত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।



