বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ক্রমশ এগিয়ে চলেছে অসম। রাজ্যের সরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি নতুন শিল্প স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
অসমে উৎপাদিত শিল্পপণ্য বিদেশে রপ্তানির জন্য স্থলপথের পাশাপাশি জলপথের পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার ঐতিহাসিক ডিব্রুগড় থেকে ফের জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সোমবার স্বাধীনতার ৮০ বছর পর প্রথমবার ডিব্রুগড়ের বগীবিল বন্দর থেকে জলপথে বিদেশে বাণিজ্যিক পণ্য রপ্তানি করা হয়। এর ফলে বগীবিল বন্দর উজান অসমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন প্রবেশদ্বার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নামরূপের অসম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডে উৎপাদিত মিথানল এদিন বগীবিল বন্দর থেকে জলপথে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। মিথানল রপ্তানির মধ্য দিয়ে কয়েক দশক পর ব্রহ্মপুত্রের বুকে আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালবাহী জাহাজে ডিব্রুগড়ের ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পণ্য পরিবহণ ও রপ্তানি করা হত। দীর্ঘ সময় পর বগীবিলে নির্মিত আধুনিক জাহাজবন্দর থেকে ফের বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি শুরু হল।
এদিন একটি বড় জাহাজে ২৭টি কন্টেনারে করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে মিথানল। প্রতিটি কন্টেনারে ২০ টন করে মোট ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল রয়েছে।
বগীবিল থেকে বাংলাদেশের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৯০৮ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিতে জাহাজটির প্রায় ১০ দিন সময় লাগবে বলে জানা গেছে।
জলপথে এই বাণিজ্যিক পরিষেবার সূচনার ফলে উজান অসমের শিল্পজাত পণ্যের পাশাপাশি কৃষিজাত সামগ্রীও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি হল।



