মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : প্রিয়জনের স্মৃতি ধরে রাখতে কেউ ছবি সংরক্ষণ করেন, কেউ স্মৃতিচারণের আয়োজন করেন। তবে সেই স্মৃতিকে প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে জীবন্ত করে রাখার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। পাথারকান্দিতে প্রয়াত কৃপেশ রঞ্জন পালের স্মৃতির উদ্দেশ্যে এমনই এক উদ্যোগ নিয়েছেন পাথারিগাঁওয়ের যুবক পবিত্র সিনহা বংশী
সোমবার পাথারকান্দি মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে একটি মূল্যবান শ্বেত চন্দনের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। উদ্যোক্তার মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রয়াত কৃপেশ রঞ্জন পালের স্মৃতিকে পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা ধরে রাখার প্রয়াস করা হয়েছে।
পবিত্র সিনহা জানান, একটি গাছ রোপণের মধ্যেই কর্মসূচি সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে পাথারকান্দি সমষ্টির বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং সরকারি কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে শ্বেত চন্দনের চারা রোপণ করা হবে। তাঁর পরিকল্পনা, শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রয়াত কৃপেশরঞ্জন পালের স্মৃতিকে আরও বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া।
উদ্যোক্তার বক্তব্য, পাথারকান্দিবাসীর কাছে প্রয়াত কৃপেশ রঞ্জন পালের অবদান স্মরণীয়। তাঁর মতে, একজন মানুষের কর্ম ও উত্তরসূরির মধ্য দিয়েও তাঁর পরিচয় দীর্ঘদিন বেঁচে থাকে। কৃপেশ রঞ্জন পালের সন্তান কৃষ্ণেন্দু পালকে ঘিরে পাথারকান্দিবাসীর যে প্রত্যাশা ও পরিচিতি তৈরি হয়েছে, তার পেছনেও তাঁর পারিবারিক অবদানের কথা স্মরণ করেন পবিত্র সিনহা।
শ্বেত চন্দনকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূল্যবান এই বৃক্ষের মতোই তাঁদের কাছে প্রয়াত কৃপেশ রঞ্জন পালের স্মৃতিও মূল্যবান। তাই শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে শ্বেত চন্দন রোপণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, স্মরণ অনুষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা তাৎপর্যপূর্ণ। স্মৃতিরক্ষা ও সবুজায়নের এই সমন্বিত উদ্যোগ আগামী দিনে অন্যদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।



