বরাক তরঙ্গ, ১১ অক্টোবর : গুয়াহাটির চাপাইদঙের নৃত্যশিল্পী হিমাশ্ৰী বড়োর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে চাঞ্চল্য। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে হিমাশ্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন তাঁর সঙ্গে নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নিতে যাওয়া চার সতীর্থ। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা ইভেন্ট ম্যানেজার গোবিন্দের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। হিমাশ্রীর বাড়িতে উপস্থিত হওয়া ওই চার সতীর্থ হলেন সুমিত্রা দেওরি, আজিনুর হোসেন, আয়েশা খান ও আবু বকর সিদ্দিক। তাঁদের অভিযোগ, গোবিন্দ শুধু হিমাশ্রীকেই নয়, দলের অন্যান্য যুবক-যুবতীকেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। এমনকী, দু’জনকে মারধর করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।
সতীর্থদের দাবি, হিমাশ্রী বাড়ি ফিরে আসতে চাইলে গোবিন্দ বারবার বাধা দিতেন। হিমাশ্রী বাড়ি ফিরলে ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, একটি অনুষ্ঠানে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলে গোবিন্দ হিমাশ্রীকে বাড়ি ফিরতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে হিমাশ্রীর মৃত্যুর পিছনে ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তাঁর সতীর্থরা। তবে তাঁদের এই অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ছাড়া, দলের কয়েকজন নৃত্যশিল্পীকে প্রতিদিন দুটি করে ট্যাবলেট খেতে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে গোবিন্দের বিরুদ্ধে। সতীর্থদের দাবি, শরীরের ওজন বাড়ানোর ওষুধ বলে তাঁদের ওই ট্যাবলেট দেওয়া হতো। প্রথমদিকে তাঁরা তা খেতে রাজি না হলেও পরে গোবিন্দের ভয়ে হিমাশ্রী-সহ চার যুবতী ট্যাবলেট খেতে শুরু করেন। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে তাঁরা ওই ট্যাবলেট খেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ট্যাবলেটগুলিতে কী উপাদান ছিল, সে সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানতেন না বলে জানিয়েছেন।
সতীর্থদের আরও অভিযোগ, ট্যাবলেট না খেলে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হতো। হোটেল থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচের জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হতো। অনুষ্ঠান না করে বাড়ি ফিরতে চাইলে পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ। গোবিন্দের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে নিষেধ করে হুমকি দেওয়ার কথাও সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন তাঁরা।

এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে অসম পুলিশের এক সিনিয়র আধিকারিককেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হিমাশ্রীর মৃত্যুকে ঘিরে সতীর্থদের এই অভিযোগে তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।



