মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুলাই : জন্মভূমি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে প্রবাসজীবন কাটালেও ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি টান অটুট রেখেছেন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই কর্ণাটকের ব্যাঙ্গালোরে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হলো শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের পবিত্র রথযাত্রা। ধর্মীয় এই আয়োজন প্রবাসী বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সমাজের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কালচারেল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে করমঙ্গলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত উৎসবে আসাম, ত্রিপুরা, মণিপুর, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত শতাধিক প্রবাসী নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতী ও শিশু অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তাদের উপস্থিতিতে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন ও ভজনের মাধ্যমে ধর্মীয় কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সুসজ্জিত রথে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে প্রতিষ্ঠা করে রথযাত্রা বের করা হয়। ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও কীর্তনের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ।

রথযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভক্তিমূলক সঙ্গীত, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। শিশু, তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। দীর্ঘদিন পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী পরিবারগুলোর পুনর্মিলন আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
উৎসব কমিটির আমন্ত্রণে অতিথি হিসেবে অসম রাজ্য বিজেপি ওবিসি মোর্চার কার্যকরী সভাপতি ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি ইউনাইটেড ইয়ুথ অর্গেনাইজেশনের কার্যকরী সভাপতি বিমল সিনহাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, প্রবাসে থেকেও ধর্মীয় বিশ্বাস, ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখার এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখবে এবং সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
আয়োজকরা জানান, প্রতিবছর রথযাত্রা উপলক্ষে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রবাসী বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়কে একত্রিত করা, নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করা। তাদের মতে, রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং প্রবাসে আত্মপরিচয়, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য সকল ভক্ত, স্বেচ্ছাসেবক, দাতা, শুভানুধ্যায়ী ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আয়োজক কমিটি।



