বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জুলাই : ২০২৭ সালের ভারতের জনগণনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার থেকে শিলচরের কাছাড় কলেজে শিলচর গ্রামীণ এলাকার সুপারভাইজার ও গণনাকারীদের জন্য জেলা-স্তরের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জনগণনা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন যাঁরা, তাঁদের তৃনমুল পর্যায়ের কর্মী হিসেবে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
চারটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সুপারভাইজার ও গণনাকারীদের মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ব্যবহারিক দিকসমূহ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রশিক্ষণ সেশনগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে অংশগ্রহণকারীরা জনগণনার তফসিল, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া, প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্ধারিত বিন্যাস এবং সমীক্ষা চলাকালীন মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে পারেন।
প্রতিদিন সকাল ৯টা ৩০মিনিট থেকে বিকেল ৫টা ৩০মিনিট পর্যন্ত প্রশিক্ষণ চলবে। প্রথম পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে ২০, ২১ ও ২২ জুলাই। দ্বিতীয় পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে ২৪, ২৫ ও ২৭ জুলাই। তৃতীয় পর্যায় নির্ধারিত হয়েছে ২৯, ৩০ ও ৩১ জুলাই। আর চতুর্থ ও শেষ পর্যায় অনুষ্ঠিত হবে ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট।
এদিকে, কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকগন জানিয়েছেন , জনগণনার সময় সংগৃহীত তথ্য যাতে নির্ভুল, পূর্ণাঙ্গ এবং অভিন্ন মানসম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে তৃনমুল পর্যায়ের কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের- মাঠপর্যায়ে কাজের ব্যবহারিক দিকগুলো সম্পর্কেও হাতে-কলমে নির্দেশনা প্রদান করা হবে, যাতে তাঁরা তৃণমূল স্তরে অর্পিত দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে সক্ষম হন।
উল্লেখ্য, জনগণনা দেশের সর্ববৃহৎ পরিসংখ্যানভিত্তিক কার্যক্রম, যার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ জনমিতিক ও আর্থ-সামাজিক তথ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন, সম্পদের যথাযথ বণ্টন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রস্তুতি পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসনও একটি দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে দেশব্যাপী জনগণনা কার্যক্রম শুরু হলে তা সফল ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা যায়।



