বরাক তরঙ্গ, ৪ সেপ্টেম্বর : মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে এক ছাত্রীর মেসেজ। আর সেই মেসেজের পরই মুহূর্তের মধ্যে মিটে গেল দীর্ঘদিনের সমস্যা। ঘটনাটি ঘিরে এখন সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিশেষ চর্চা। প্রিয় ‘ভাগিন’দের সমস্যা সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতার বিষয়টিও ফের সামনে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার চালু করা অন্যতম প্রকল্প ‘মুখ্যমন্ত্রী জীবন প্রেরণা যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের টাকা না পাওয়ায় দু’দিন আগে দীপান্বিতা পাটগিরি নামে এক ছাত্রী সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে মেসেজ করেন। দীপান্বিতার মেসেজ পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর কাছে একটি স্বয়ংক্রিয় উত্তর যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে ‘জীবন প্রেরণা’ প্রকল্পের টাকা জমা পড়ে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যার সমাধান হচ্ছিল না, তা কার্যত মুহূর্তের মধ্যেই মিটে যায়।
ঘটনার স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা দীপান্বিতার সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের বিষয়টি তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো বার্তায় ছাত্রীটি লিখেছিলেন, “হ্যালো মামা, আপনি এখনও জীবন প্রেরণার টাকা পাঠাননি।” এর কয়েকদিন আগেই, ১ সেপ্টেম্বর, এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য এক্স-এ সুখবর জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
একইসঙ্গে যাঁরা ‘জীবন প্রেরণা’ প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন, তাঁদের সেই সংক্রান্ত বার্তা বা অভিজ্ঞতা তাঁর সঙ্গে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানের পর বৃহস্পতিবার থেকে প্রকল্পের টাকা পাওয়া বহু ছাত্রছাত্রী সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে তাঁদের আনন্দের কথা জানাতে শুরু করেন। সরাসরি মেসেজের মাধ্যমেও মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাচ্ছেন অনেকে।
এদিকে, এক্স-এ ছাত্রছাত্রীদের প্রতিক্রিয়ার ঝলক শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী শর্মা লেখেন, “আজ আমার কমেন্ট সেকশনটা এমনই। বড় বড় স্বপ্ন দেখতে থাকো, আমার প্রিয় ভাগিনরা।” ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘মুখ্যমন্ত্রীর জীবন প্রেরণা যোজনা’র মূল লক্ষ্য হলো স্নাতক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সহায়তা করা। এই প্রকল্পের আওতায় অসমের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগ্য স্নাতকদের সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অসম বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ায় চলতি অর্থবর্ষের আর্থিক সহায়তার অর্থ ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ের আর্থিক সহায়তার অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।



