বরাক তরঙ্গ, ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার,
শিলচর পুর নিগম নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক। এর মধ্যে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে ওঠা প্রশ্ন নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। বিজেপি ও কংগ্রেস—দুই দলেরই কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সত্যি কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন প্রশ্ন ওঠাই যথেষ্ট গুরুতর।
বিশেষ করে কোনও প্রার্থী যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্দিষ্ট বছরে ডিগ্রি অর্জনের দাবি করছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সময়কাল যদি তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। শিলচর পুরনিগমের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের অগপ-সমর্থিত প্রার্থী শেলি সুলতানা মজুমদারের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগটি এই কারণেই আলোচনায় এসেছে। তাঁর হলফনামায় ২০০৮ সালে ছত্তিশগড়ের আইএসবিএম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করার কথা উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত। তবে প্রার্থীর স্বামী দাবি করেছেন, ডিগ্রিটি আসল এবং হলফনামায় বছর উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে।
এখানেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া যেমন উচিত নয়, তেমনই যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে ‘জাল সার্টিফিকেটধারী’ বলাও ন্যায়সঙ্গত নয়। প্রয়োজন নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত।
প্রার্থীদের হলফনামা ভোটারদের সামনে তাঁদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরার একটি মাধ্যম। সেখানে ভুল তথ্য দেওয়া হয়ে থাকলে তার দায় নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে কোনও প্রার্থীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শিলচর পুর নিগমের ভোটারদের তাই আবেগ বা রাজনৈতিক প্রচারের পরিবর্তে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আর নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা—শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি নিয়ে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক। কারণ নির্বাচন শুধু প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া নয়, এটি মানুষের আস্থা ও গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা।



