বরাক তরঙ্গ, ১৬ এপ্রিল : পালিয়ে বিয়েকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল দক্ষিণ ধলাইয়ের রাজনগর গ্রাম। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই মধ্যস্থতাকারীর বাড়ির সামনে কনেপক্ষের অতর্কিত চুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হলেন বরের চাচা। বর্তমানে তিনি শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজনগর গ্রামের বাসিন্দা আইনুল হক লস্করের ছেলে মজিবুর রহমান লস্কর (২২) গত রাতে বিদ্যারতনপুর গ্রামের প্রয়াত নুর উদ্দিনের কন্যা রুনু বেগমকে (১৯) নিয়ে পালিয়ে আসেন। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, মজিবুর ও রুনুর সামাজিক বিবাহ সম্পন্ন হবে।
প্রাথমিকভাবে বরের বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করার কথা থাকলেও কনেপক্ষ তাতে আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে গ্রামের তৃতীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। সেই মোতাবেক, বৃহস্পতিবার বর ও কনেকে নিয়ে একটি মারুতি ভ্যানে করে বরপক্ষ যখন মধ্যস্থতাকারীর বাড়ির সামনে পৌঁছান, তখনই ঘটে রক্তক্ষয়ী সেই ঘটনা।অভিযোগ উঠেছে, কনের দুই ভাই আকবর হোসেন ও আকতর হোসেন এবং দুই বোন আগে থেকেই সেখানে অস্ত্র নিয়ে ওঁত পেতে ছিলেন। গাড়িটি থামামাত্রই তাঁরা বরপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। অতর্কিত এই আক্রমণে হতভম্ব হয়ে পড়েন সবাই। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কনের বড় ভাই আকবর হোসেন ধারালো ছুরি দিয়ে মজিবুরের চাচা আইনুল হক লস্করের মাথায় কোপ মারে। রক্তাত্ব অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
আহত আইনুল হককে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে ধলাই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই আক্রমণকারী দুই ভাই ও দুই বোন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, তাঁদের সঙ্গে থাকা এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটকে রাখেন। খবর পেয়ে ধলাই থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের হাতে ধৃত যুবককে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে।



