১ জুন : উত্তর-পূর্ব মায়ান্মারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। রবিবার মায়ানমারের চিন সীমান্তসংলগ্ন শান প্রদেশের নামখান জেলার কাওংটাট গ্রামে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
জানা গেছে, কাওংটাট গ্রামটি বিদ্রোহী সংগঠন তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরেই মায়ানমারের সামরিক জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রবিবার দুপুরে গ্রামের একটি বাড়িতে হঠাৎ প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে।
টিএনএলএ সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরিত ভবনটিতে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনি থেকে পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরিত হওয়াতেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে অন্তত ২৫ জন নারী রয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বিস্ফোরণে প্রায় ১০০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর প্রথমদিকে অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে পরে টিএনএলএ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানায় যে এটি কোনো বিমান হামলার ঘটনা নয়, বরং দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের ফলেই এত বড় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মায়ান্মারের সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জান্তা বাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কাওংটাট গ্রামের বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।



