ইরানের দুর্দান্ত প্রতিরোধে আটকে গেল বেলজিয়াম, গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ ‘জি’ গ্রুপের লড়াই

Spread the news

২২ জুন : বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি ইরান। তবে সেই প্রতিকূলতাকে শক্তিতে পরিণত করে মাঠে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। আন্ডারডগ হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও এবার ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়ামকে রুখে দিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল ইরান।
রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরান ও বেলজিয়াম ০-০ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটি সময় ১০ জনের দল নিয়ে খেলেও হার এড়াতে সক্ষম হয় বেলজিয়াম।

চলতি বিশ্বকাপে এটি বেলজিয়ামের দ্বিতীয় ড্র। এর আগে মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ চার ম্যাচে জয়ের দেখা পেল না ইউরোপের দলটি; যেখানে রয়েছে তিনটি ড্র ও একটি হার।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল বেলজিয়ামের। রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনাদের একের পর এক আক্রমণে বেশ কয়েকবার চাপে পড়ে ইরান। কিন্তু গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের অনবদ্য পারফরম্যান্সে প্রতিটি সুযোগ ব্যর্থ হয়ে যায়। প্রথমার্ধেই চারটি নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন তিনি।

তবে শুধু রক্ষণেই সীমাবদ্ধ ছিল না ইরান। পাল্টা আক্রমণেও তারা বেশ কয়েকবার বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে। এক পর্যায়ে ইরান বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। এছাড়া একটি দারুণ সুযোগ প্রতিহত করেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

দ্বিতীয়ার্ধেও বেলজিয়ামের আক্রমণের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান আলিরেজা। ৬০তম মিনিটে ডি ব্রুইনের কাট-ব্যাক থেকে ডি কাইপারের নেওয়া কাছ থেকে শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় এক হাতে ঠেকিয়ে দেন তিনি। ছয় মিনিট পর ডিফেন্ডার নাথান এনগয় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বেলজিয়াম।
সংখ্যাগত সুবিধা পাওয়ার পর ইরান কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ পর্যন্ত জালের দেখা পায়নি। অন্যদিকে ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও ডি কাইপারের শক্তিশালী শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন আলিরেজা। শেষ পর্যন্ত ইরানি গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যের সামনে কোনো সমাধান খুঁজে পায়নি বেলজিয়াম। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে আলিরেজা বেইরানভান্দই হয়ে ওঠেন ইরানের এক পয়েন্ট অর্জনের প্রধান নায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *