লন্ডনে বানত্রাণের জন্য তহবিল সংগ্রহ, অভিনেত্রী মেঘরঞ্জনীকে ঘিরে বিতর্ক; মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ আগস্ট : অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে লন্ডনের রাস্তায় কথক নৃত্য পরিবেশন এবং ড. ভূপেন হাজারিকার কালজয়ী গান ‘মানুষে মানুষের জন্য’ গেয়ে বন্যাদুর্গতদের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়ায় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মেঘরঞ্জনী মেধিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মেঘরঞ্জনী, তাঁর অভিনেতা স্বামী নীল দাস এবং ছাত্রী ইন্দ্রাণী লন্ডনে এই কর্মসূচি পালন করেন এবং তার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।

এই উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। একাংশের দাবি, বিদেশের মাটিতে এভাবে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ অসমবাসীকে বিশ্বদরবারে বিব্রত করেছে। অন্যদিকে, অনেকেই বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
বুধবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, লন্ডনে গিয়ে বন্যাত্রাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতির সঙ্গে তিনি একমত নন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দিল্লি থেকেও অর্থ চাইতে অস্বস্তি বোধ করি, লন্ডনের কথা তো আরও দূরের। আমি সবসময় চেষ্টা করি, কীভাবে নিজের রাজ্যের মানুষকে আমরা নিজেরাই সাহায্য করতে পারি। কারও কাছে হাত পাতার পক্ষে আমি নই। কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করেন, সেটা আলাদা বিষয়। আমার বিশ্বাস, বন্যাদুর্গত মানুষকে সহায়তা করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। গত চারদিন ধরে আমি বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছি। কোথাও কোনও অভিযোগ পাইনি। সাধারণ মানুষ সরকারের উপর আস্থা রেখেছেন এবং আমরা তাঁদের যথাযথভাবে সাহায্য করব।”

তিনি আরও বলেন, “লন্ডন বা আমেরিকায় গিয়ে সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ যদি টিভি, ফেসবুক বা ইউটিউবে অসমের বন্যা পরিস্থিতি দেখে স্বেচ্ছায় অনুদান দেন, তাতে আপত্তি নেই। যেমন অসমের মানুষও বিদেশে কোনও দুর্যোগ হলে সাহায্য করতে পারেন। তবে সাহায্য চাওয়া আর স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহায্য করা—দুটো ভিন্ন বিষয়।”

এদিকে, বিতর্ক তুঙ্গে ওঠার পর মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মেঘরঞ্জনী মেধি। তিনি জানান, লন্ডনে নিজের শিল্পের মাধ্যমে অসমের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সামান্য সহায়তা সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি এই ‘ফান্ডরেইজিং স্ট্রিট শো’ আয়োজন করেছিলেন।

সমালোচকদের উদ্দেশে অভিনেত্রী বলেন, “এই সময়ে আমাকে নিয়ে ব্যস্ত না থেকে আমাদের রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া উচিত। এখন সময় নষ্ট না করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে জরুরি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *