বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুলাই : ভুয়ো আধার কার্ডের মাধ্যমে ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে এক বাংলাদেশি মহিলাকে এবং তাঁকে আশ্রয় ও সহযোগিতা করার অভিযোগে এক স্থানীয় যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ধর্মনগর থানার পুলিশ। ঘটনাকে ঘিরে উত্তর ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী ধর্মনগর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জাল পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে কোনও সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ধর্মনগর থানায় ২০২৬/DMN PS/45 নম্বরের একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস), ইমিগ্রেশন আইন এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের একাধিক ধারায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি মহিলার নাম সোমাইয়া বেগম (২৯)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলায়। অপর অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন (২৩) উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর মহকুমার পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল হান্নানের ছেলে।
পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিম চন্দ্রপুরে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আব্দুল হান্নানের বাড়ি থেকে সোমাইয়া বেগম ও আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। তদন্তে জানা যায়, সোমাইয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তাঁর ব্যবহৃত আধার কার্ডে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় বিস্তারিত যাচাই শুরু হয়। পরে নথিপত্র পরীক্ষা করে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি, তাঁকে অবৈধভাবে ভারতে অবস্থান করতে আশ্রয় ও সহযোগিতা করার অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্মনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) মিনা দেববর্মা জানান, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। রবিবার দুই অভিযুক্তকে ধর্মনগর আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না এবং ভুয়ো আধারসহ অন্যান্য পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে কোনও বৃহত্তর জালিয়াত চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।



