১৭ আগস্ট : শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে বীরভূমের তারাপীঠে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। থানা সংলগ্ন একটি চারতলা হোটেলে সোমবার ভোররাতে ভয়াবহ আগুন লাগে। এই ঘটনায় অন্তত ৬ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘন কালো ধোঁয়ায় হোটেলের ভিতর উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে দমকল ও পুলিশকর্মীদেরও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়।
শ্রাবণের শেষ সোমবার তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে রবিবার থেকেই ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ভিড় জমেছিল। ফলে থানা এলাকার কাছে অবস্থিত ওই হোটেলটিও পুণ্যার্থীতে পরিপূর্ণ ছিল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাত প্রায় ৪টে নাগাদ হোটেলের গ্রাউন্ড ফ্লোরের রিসেপশন এলাকায় প্রথম আগুন নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার নিয়ে চারতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন।
আগুনের সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের ঘর ও সিঁড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। আতঙ্কিত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন আবাসিকরা। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনে ঝলসে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল ও পুলিশ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ধোঁয়ায় অসুস্থ ও অগ্নিদগ্ধ কয়েকজনকে উদ্ধার করে রামপুরহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনের শিখা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও হোটেলের ভিতরে ঘন ধোঁয়া থাকায় উদ্ধারকারীদের কাজে বাধা তৈরি হয়। হোটেলের কোনও ঘর বা নিচের অংশে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে হোটেল মালিকের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং কীভাবে এত দ্রুত আগুন চারতলায় ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।



