বরাক তরঙ্গ, ১৭ আগস্ট, সোমবার,
চন্দ্রনাথপুর-লঙ্কা-গুয়াহাটি বিকল্প রেললাইন এখন আর কেবল একটি উন্নয়নমূলক দাবি নয়, বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের স্বার্থে এটি সময়ের অপরিহার্য দাবি। ২০ জুলাই থেকে নিউ হারাঙ্গাজাও এলাকায় পাহাড়ি রেললাইনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ায় একটিমাত্র ট্র্যাক দিয়ে রেল চলাচল করছে। আজ ২৮ দিন পেরিয়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। একাধিক ট্রেন বাতিল, সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং যাত্রী দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পাহাড় লাইনের দুর্বলতা ফের স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভারি বৃষ্টিতে রেললাইনের নীচের মাটি সরে গিয়ে ধস নামা ডিমা হাসাওয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন কোনো ঘটনা নয়। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাটি, বোল্ডার ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মজবুত করার চেষ্টা চলছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি ভরাট, জিও ব্যাগ বসানো এবং রেললাইনের ভিত্তি পুনর্গঠনের কাজও চলছে। কিন্তু প্রকৃতির প্রতিকূলতা বারবার সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে। একদিকে মেরামত, অন্যদিকে বৃষ্টিতে ফের ধস—এই চক্রের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
পাহাড় লাইনের ওপর নির্ভরশীলতা এখন বহুগুণ বেড়েছে। ব্রডগেজ সম্প্রসারণের ফলে বরাক উপত্যকার সঙ্গে ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং মণিপুরের রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে। উদয়পুর, জিরিবাম ও সাইরাং পর্যন্ত রেল পরিষেবা সম্প্রসারিত হওয়ায় এই রেলপথের গুরুত্ব শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। দূরপাল্লার ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই করিডরের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। ফলে একটি পাহাড়ি অংশে দীর্ঘদিন রেল চলাচল ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে বৃহত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
এই বাস্তবতায় চন্দ্রনাথপুর-লঙ্কা বিকল্প রেললাইন নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখন সেটিকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া জরুরি। কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে এবং সার্ভের কাজও শুরু হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। কিন্তু শুধু সার্ভে করে প্রকল্পকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখলে সমস্যার সমাধান হবে না। সার্ভে দ্রুত শেষ করে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ শুরু করতে হবে।
একটি বিকল্প রেলপথ থাকলে পাহাড় লাইনে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে বরাক, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মণিপুরের রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে। তাই বর্তমান সংকটকে সাময়িক মেরামতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। চন্দ্রনাথপুর-লঙ্কা-গুয়াহাটি বিকল্প রেললাইন দ্রুত বাস্তবায়নই হতে পারে সেই স্থায়ী সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



