অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ সহ বিভিন্ন দাবিতে সরব অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুলাই :
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান লোডশেডিং, বিদ্যুতের বাড়তি মাশুল, প্রিপেড স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলকভাবে স্থাপন এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে সরব হয়েছে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। মঙ্গলবার সংগঠনের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ এজিএম ডিভিশন-১-এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি স্মারকপত্র জমা দেওয়া হয়। স্মারকপত্রে সংগঠন অভিযোগ করেছে, একদিকে দীর্ঘ সময় ধরে অঘোষিত লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান মাশুল গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের দাবি, নিয়মিত বিল আদায় করা হলেও আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিডিসিএল) নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।

সংগঠনের বক্তব্য, বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর দুর্বলতার কথা তুলে ধরা হলেও আরডিএসএস প্রকল্পের আওতায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান না করেই দ্রুত স্মার্ট মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পরিষেবা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে গ্রাহকদের ওপর পড়বে।

বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠন জানায়, বর্তমানে অসমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ন্যূনতম মূল্য ৫.৯৯ টাকা, যা ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে ৭.২৯ টাকা বা তারও বেশি হচ্ছে। অথচ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ১০০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া হলেও অসমে আগের ভর্তুকিও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

প্রিপেড স্মার্ট মিটার স্থাপন প্রসঙ্গে সংগঠনের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সম্মতি ছাড়াই, এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতে জোরপূর্বক মিটার বসানো হচ্ছে। বাধা দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দেওয়া হচ্ছে বলেও স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিদ্যুৎ আইন, ২০০৩-এর পরিপন্থী। পাশাপাশি তারা উল্লেখ করে, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী প্রিপেইড স্মার্ট মিটার সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হওয়ার কথা।

স্মারকপত্রে অঘোষিত লোডশেডিং বন্ধ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ন্যূনতম ২০০ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, স্মার্ট মিটার সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক করা, জোরপূর্বক মিটার স্থাপন বন্ধ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার বেসরকারিকরণের উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকপত্র প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সুনীত রঞ্জন দত্ত, সম্পাদক সুজিত কুমার পাল, পৃথ্বীজিৎ দেব, অজয় চৌধুরী, বিষ্ণু দত্ত পুরকায়স্থ, গোপালচন্দ্র পাল, সঞ্চিতা শুক্ল, মুক্তার আহমেদসহ অন্যান্য সদস্য। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় আগামী দিনেও তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *