উজান অসমের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে ১৪ দিনের সত্যাগ্রহ প্রত্যাহার অখিলের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৫ অক্টোবর : উজান অসমের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিতে টানা ১৪ দিন ধরে চলা সত্যাগ্রহ প্রত্যাহার করলেন শিবসাগরের বিধায়ক অখিল গগৈ। বৃহস্পতিবার সকালে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন রাজ্য সরকারের দুই মন্ত্রী কেশব মহন্ত ও পীযূষ হাজরিকা। দুই মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরই সত্যাগ্রহ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন বিধায়ক।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন সকাল ১০টা থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সত্যাগ্রহ শুরু করেছিলেন অখিল গগৈ। টানা ১৪ দিন, অর্থাৎ ৩১৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ধরে চলা এই আন্দোলনের পর বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসেন রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মন্ত্রী কেশব মহন্ত এবং কৃষি ও সেচ বিভাগের মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা।

আলোচনার সময় দুই মন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন অখিল গগৈ। আন্দোলনস্থলে এসে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য মন্ত্রীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিধায়ক আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীও ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

তবে সরকারের তৈরি করা ৫৭ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকায় সমস্ত বন্যাদুর্গত পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেন অখিল গগৈ। নিজের গ্রামের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সেখানে বন্যায় ৯১টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকারি তালিকায় মাত্র আটটি পরিবারের নাম রয়েছে। তাঁর দাবি, সরকার দ্বিতীয় একটি তালিকা প্রকাশ করে বাদ পড়া পরিবারগুলির নাম অন্তর্ভুক্ত করলেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য সফল হবে।
সত্যাগ্রহ প্রত্যাহারের পর নিজের বক্তব্যে অখিল গগৈ বলেন, গত ১৪ দিনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে তিনি সবচেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছেন। তাঁর কথায়, গত ১৯ জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যা তিনটি জেলার চেহারা বদলে দিয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ মানুষের বাড়িঘর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে মানসিকভাবেও তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান বিধায়ক। প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় গণসমাবেশ করা হয়। এরপর কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি ও ছাত্র মুক্তি সংগ্রাম সমিতির উদ্যোগে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। তার পরেই সরকার আলোচনায় বসতে সম্মত হয় বলে জানান তিনি।

অখিল গগৈ আরও বলেন, তাঁরা এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে তদন্তের ব্যবস্থা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দুটি তালিকা পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম পর্যায়ে ৫৭ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং পরে দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যাওয়া বাড়িগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। তবে অখিল গগৈয়ের দাবি ছিল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

শুধু বাড়িঘরের ক্ষতিপূরণ নয়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্যও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। বিশেষ করে শিবসাগর বিধানসভা কেন্দ্রের রাস্তাঘাট ও অন্যান্য পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরকারি অর্থ বরাদ্দ জরুরি বলে মন্তব্য করেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট তথ্য ইতিমধ্যেই সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অখিল গগৈয়ের বক্তব্য, বাদ পড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির নাম দ্বিতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং পুনর্বাসন ও পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সরকারের কাছে প্রধান প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *