১২ জুন : কলকাতার ‘তৃণমূল ভবন’ ফাঁকা করার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী মন্টু সাহা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই এবার দেশের রাজধানী দিল্লিতেও বড়সড় ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। দিল্লিতে রাতারাতি ‘ঘরছাড়া’ হতে হলো তৃণমূল কংগ্রেসকে। শুক্রবার দিল্লির ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের বাংলো থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি যুক্ত সমস্ত ব্যানার, পোস্টার ও হোর্ডিং। তড়িঘড়ি নিজেদের দলীয় কার্যালয় ফাঁকা করে পুরনো অফিসে ফিরতে বাধ্য হলো তৃণমূল নেতৃত্ব।
দিল্লির এই তৃণমূল কার্যালয়টি আসলে ছিল ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ২০ নম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদ রোডের সরকারি বাসভবনে। সংসদ ভবনের ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত এই বিলাসবহুল বাংলোটি সাংসদ হিসেবে পার্থ ভৌমিককে বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্র। দলীয় নেত্রীর নির্দেশেই এতদিন ওই বাড়িটিকে তৃণমূলের দিল্লির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখান থেকেই সমস্ত রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালানো হতো।
তবে সমীকরণ বদলে গিয়েছে ২০২৬ সালের রাজনীতির ডামাডোলে। পার্থ ভৌমিক এখন প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে দেওয়া তাঁর একটি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে তিনি সইও করে দিয়েছেন। ফলে দলীয় নেত্রীর নির্দেশ মানার কোনো বাধ্যবাধকতা এখন আর তাঁর নেই। নিজের সরকারি বাসভবন থেকে তৃণমূলের দলীয় দফতর অবিলম্বে ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন পার্থ। তাঁর নির্দেশের পরেই শুক্রবার সকাল থেকে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত ব্যানার-পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়।
রাজেন্দ্র প্রসাদ রোড হাতছাড়া হওয়ার পর তৃণমূলের নতুন ঠিকানা এখন ৬১ নম্বর সাউথ অ্যাভিনিউয়ের দিল্লির বাংলো। এই বাড়িটি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নামে বরাদ্দ। এখনও যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা রেখে দলের হয়ে লড়াই চালাচ্ছেন, নাদিমুল হক তাঁদের অন্যতম। এখন থেকে তাঁর বাড়ি থেকেই দিল্লির সমস্ত রাজনৈতিক কাজ পরিচালনা করবে তৃণমূল।
কার্যালয় বদল নিয়ে জলঘোলা হতেই অবশ্য আসরে নেমেছে ঘাসফুল শিবির। দলের দাবি, নাদিমুল হকের এই সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই ২০১৭ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের দিল্লির স্থায়ী অফিস ছিল। পরবর্তীতে ওই বাড়িটিতে সংস্কার বা রেনোভেশনের কাজ চলায় অফিসটি সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফলে এটিকে ‘উচ্ছেদ’ না বলে নিজেদের পুরনো ডেরায় ফিরে যাওয়া হিসেবেই দেখাতে চাইছে দল।



