দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১০ মে : জন্মগত শারীরিক জটিলতা, অসহনীয় যন্ত্রণা এবং একের পর এক অস্ত্রোপচারের কঠিন লড়াই পেরিয়ে অবশেষে চিকিৎসক হলেন শিলচরের অমল দেব। সম্প্রতি ঘোষিত এমবিবিএস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আজ বহু মানুষের কাছে সাহস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
জন্ম থেকেই অমল কনজেনিটাল ট্যালিপাস ইকুইনোভেরাস (সিটিইভি) এবং জটিল ভাসকুলার সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাকে সহ্য করতে হয়েছে তীব্র শারীরিক কষ্ট। এখন পর্যন্ত তার পায়ে মোট ১৫ বার অস্ত্রোপচার হয়েছে। একসময় চিকিৎসকেরা তার পা কেটে ফেলার পরামর্শও দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
শৈশব ও কৈশোরের দীর্ঘ সময় জুড়ে পায়ে ফোলা, হাঁটাচলায় সমস্যা, নিয়মিত ব্যথা ও জ্বরে ভুগতে হয়েছে অমলকে। বিশেষ ধরনের জুতো এবং পেইনকিলারের সাহায্যেই চলাফেরা করতে হতো। একবার পায়ে আলসার হওয়ায় প্রায় দুই বছর ঘরবন্দি অবস্থায় কাটাতে হয়েছিল তাঁকে।
তবে জীবনের এই কঠিন সময়ে অমলের পাশে ছিলেন বাবা অমিতরঞ্জন দেব, মা রাধা দেব এবং বোন তনুজা। পরিবারের নিরন্তর সমর্থন ও সাহসই তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে অমল ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। মাধ্যমিক পরীক্ষার মাত্র ১০ দিন আগে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বিছানায় শুয়েই পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। পরে শিলচর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়াকালীনও আরও চারবার অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে।
সব প্রতিকূলতাকে জয় করে সম্প্রতি এমবিবিএস পরীক্ষায় সফল হন অমল দেব। তার এই সাফল্যে গর্বিত পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং সমগ্র বরাক উপত্যকা।
অমল দেব বলেন, “লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে গেলে কোনও বাধাই মানুষকে থামাতে পারে না।” তাঁর এই সংগ্রাম ও সাফল্যের কাহিনি আজ বরাক উপত্যকার যুব সমাজের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছে।



