বরাক তরঙ্গ, ১০ মে : আগামী ১২ মে অসমের নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে নতুন মন্ত্রিসভায় শিলচরের বিধায়ককে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায়। তিনি নতুন সরকারকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বরাক উপত্যকা তথা আসামের ৯০ লক্ষ বাঙালির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তাঁদের আশা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আসামের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর শিলচর থেকে নির্বাচিত কোনও বিধায়ককে গত ৪২ বছর ধরে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, কংগ্রেস, অগপ কিংবা বিজেপি— কোনও সরকারই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়নি। প্রদীপ দত্তরায় জানান, ১৯৮৩ সালে জগদীশ চৌধুরী শিলচর থেকে শেষবারের মতো মন্ত্রী হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, জনসংখ্যার নিরিখে শিলচর অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের সূচনা এই শহর থেকেই হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে এখানে চা শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং যুদ্ধকালীন প্রয়োজনে সামরিক বিমানবন্দরও গড়ে তোলা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও শিলচরের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ফলে শহরটি তার ঐতিহ্য ও মর্যাদা হারাতে বসেছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক।
প্রদীপ দত্তরায় বলেন, বিজেপি আমলে দিলীপকুমার পাল ও দীপায়ন চক্রবর্তী শিলচর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হলেও কাউকেই মন্ত্রীসভায় স্থান দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, আসামে বিজেপির উত্থানের অন্যতম স্থপতি প্রয়াত বিমলাংশু রায়ের পুত্র এবার শিলচর থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাঁর প্রতি এবং বরাকের ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে শিলচরের বিধায়ককে নতুন মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাচ্ছে বিডিএফ।
এদিন প্রদীপ দত্তরায় পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের গঠন প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে একইসঙ্গে আসামের ৯০ লক্ষ বাঙালির সমস্যার প্রতিও বিজেপি নেতৃত্বকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আসামের বাঙালিদের ‘ডি ভোটার’ করা হবে, কেন এনআরসিতে ১২ লক্ষ বাঙালি হিন্দুসহ ১৯ লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে, কেন বাঙালি যুবক-যুবতীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে এবং কেন বরাক উপত্যকার সরকারি প্রশাসনে বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব এত কম থাকবে। নতুন সরকার এসব বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে বলেই আশা প্রকাশ করেন বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক।



