২২ জুন: পরিবারের ‘সম্মানরক্ষার’ নামে দুই নাবালিকা কন্যাকে চম্বল নদীতে ছুড়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে রাজস্থানের ঢোলপুর জেলায়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে ‘অনার কিলিং’-এর ঘটনা বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাবা ভরত লোধা এবং তাঁর ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢোলপুর জেলার সদর থানার অন্তর্গত ফারকপুরা গ্রামের বাসিন্দা ভরত লোধার দুই নাবালিকা কন্যা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করলে গ্রামে একটি বৈঠক ডাকা হয়। সেই বৈঠকেই ভরত দাবি করেন, তাঁর দুই মেয়ে চম্বল নদীতে পড়ে গিয়েছিল।
তবে দুই বোনের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সন্দেহ দানা বাঁধে গ্রামবাসীদের মনে। তাঁরা ভরত লোধার বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এরপর শনিবার ঢোলপুরের পুলিশ সুপার বিকাশ সাঙ্গওয়ানের নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি চম্বল নদীতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়, যা রবিবারও অব্যাহত ছিল।
নাবালিকাদের এক আত্মীয় লাখপত লোধার অভিযোগ, গত ১১ জুন ভরত লোধা তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও ভাইকে নিয়ে একটি গাড়িতে চার শিশুকে সঙ্গে করে বেরিয়েছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই দুই নাবালিকাকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও গ্রামসভায় ভরত দাবি করেন, তাঁর দুই মেয়ে দুর্ঘটনাবশত নদীতে পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এতদিন বিষয়টি গোপন রাখার কারণেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, দুই নাবালিকা স্থানীয় দুই যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। সেই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি পরিবার। এই কারণেই তাঁদের উপর আগে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলেও তদন্তে জানা গেছে।
অভিযোগ, পরিকল্পনা করে দুই কিশোরীকে চম্বল নদীর সেতুতে নিয়ে গিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং পুলিশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না। তবে ঘটনার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত এগোচ্ছে। আটক বাবা ও ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।



