বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : আগামী ২৮ মে সারা দেশের সঙ্গে কাছাড় তথা বরাক উপত্যকাতেও পবিত্র ঈদ-উল আজহা বা কোরবানির ঈদ পালিত হবে। এই পবিত্র উৎসবকে সামনে রেখে শিলচর বড় মসজিদ কমিটি, ঈদ সম্মিলনী উদযাপন কমিটি, শিলচর ও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে জেলার আপামর মুসলিম জনসাধারণের প্রতি শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সরকার গো-কোরবানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে এবং গরু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পূজনীয় জীব। তাই যাঁরা কোরবানি দিতে আগ্রহী, তাঁদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে যাতে গরুর পরিবর্তে বৈধ বিকল্প পশু দিয়ে কোরবানি আদায় করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসলাম ধর্ম কখনও অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে শিক্ষা দেয় না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—“আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না কোরবানির পশুর মাংস কিংবা রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সূরা আল-হাজ্জ : ৩৭)
এছাড়াও হাদিস শরিফে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন— “প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গরু দিয়েই কোরবানি দিতে হবে— এমন কোনও বাধ্যবাধকতা কোরআন বা হাদিসে নেই। তাই শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।.একই সঙ্গে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন মহল্লাভিত্তিক মসজিদ কমিটির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কোরবানির বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে না রেখে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে, যাতে পরিবেশ দূষণ না ঘটে এবং কোনও পশুপাখি সেই বর্জ্য বহন করে নিয়ে যেতে না পারে।
গ্রাম ও বস্তি এলাকা থেকে যেসব দরিদ্র মানুষ কোরবানির মাংস সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন বাড়িতে যান, তাঁদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ মাংসসহ কেউ ধরা পড়লে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মহল্লা মসজিদ কমিটিকে দায়ী করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু দুষ্কৃতি মহল সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাতে পারে। তাই সকলকে সচেতন, সংযমী ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন শিলচর বড় মসজিদ কমিটির সভাপতি ও বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর, সাধারণ সম্পাদক মিলন উদ্দিন লস্কর, ঈদ সম্মিলনী উদযাপন কমিটির পক্ষে সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরী, কার্যকরী সভাপতি শিহাবুদ্দিন আহমদ, সম্পাদক মাজুদ আহমেদ লস্কর। এছাড়াও স্বাক্ষরকারীর মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক মওলানা আতাউর রহমান মাঝারভূইয়া, অবসরপ্রাপ্ত আমলা হোসেন আহমদ লস্কর,লুৎফুর রহমান লস্কর, সামিনুল হক বড়ভূইয়া, রেজাউল করিম বড়ভূইয়া প্রমুখ।



