নবোদয় কাণ্ড: তিন ছাত্রকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠাল পুলিশ, শাস্তির দাবি এআইডিএসও-র

Spread the news

কে এ লস্কর, লক্ষীপুর।
বরাক তরঙ্গ, ১২ মার্চ : পয়লাপুল জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র অরিন্দম দাসের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্তে নেমেছে লক্ষীপুর পুলিশ। ঘটনার সূত্র ধরে বিদ্যালয়ের তিনজন ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ এবং পরে তাদের জেলা জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়। জাস্টিস বোর্ডের নির্দেশে ওই তিন ছাত্রকে পর্যবেক্ষণ হোমে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে বিদ্যালয়ের শৌচালয় থেকে নবম শ্রেণির ছাত্র অরিন্দম দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ছাত্রের পকেট থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার হয়, যেখানে তিনজন ছাত্রের নাম উল্লেখ ছিল। মৃত ছাত্রের বাবা অনুপম দাস অভিযোগ করেন, ওই তিন ছাত্রের র‍্যাগিংয়ের শিকার হয়েই তার ছেলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি লক্ষীপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন এবং তিনজন ছাত্রকে অভিযুক্ত করেন। এজাহারের ভিত্তিতে লক্ষীপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এ দিকে, এ ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (AIDSO), এর কাছাড় জেলা কমিটি। ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার পেছনে কোনও প্রকার গাফিলতি বা অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অবিলম্বে এক উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতি যোগে জানানো হয় একটি কেন্দ্রীয় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করা ছাত্রের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হোস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে অতি দ্রুত এই মৃত্যুর আসল কারণ জনসমক্ষে আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দাবি জানানো হয় যে এই ঘটনার পেছনে যদি কারও কোনো প্ররোচনা বা গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *