পুজোয় যানজট, বিদ্যুৎ, জল ও নিরাপত্তায় বিশেষ নজর শিলচর পুরনিগমের, রাস্তার ধারে মণ্ডপ নির্মাণে অনুমতি নয়

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ অক্টোবর : দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে যানজট নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ, রাস্তা মেরামতি, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে শিলচর পুরনিগম। রাস্তার উপর বা ধারে মণ্ডপ নির্মাণের ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন এড়াতে এ ধরনের নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

এই উপলক্ষে মঙ্গলবার পুরনিগমের সম্মেলনকক্ষে এক প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কার্যনির্বাহী আধিকারিক অভিজিৎ বে। উপস্থিত ছিলেন উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, কাছাড়ের সহকারী আয়ুক্ত মাসি টোপনো, এপিডিসিএলের ডিরেক্টর নিত্যভূষণ দে, সাময়িক প্রসঙ্গের সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী, বিশিষ্ট নাগরিক নিলাভ মৃদুল মজুমদার ও দুলাল মিত্র-সহ বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকরা।

বৈঠকে অভিজিৎ বে পুজো কমিটিগুলিকে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মাইক, লাউডস্পিকার ও ডিজের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দেওয়া হয়।

শহরের নিকাশি নালা পরিষ্কার, আবর্জনা অপসারণ, বিকল পথবাতি মেরামতি এবং মণ্ডপের আশপাশে জীবাণুনাশক ছড়ানোর জন্য পুরনিগমের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা যানজট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পানীয় জলের সমস্যা ও রাস্তার গর্ত মেরামতির উপর গুরুত্ব দেন। রাস্তা খুঁড়ে ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পুজো কমিটিকে দায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

দুলাল মিত্র শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব দেন। মৃদুল মজুমদার বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের সম্ভাবনা, পর্যাপ্ত পথবাতি এবং শহরে গবাদি পশুর অবাধ চলাচলের সমস্যা তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, প্রতিমা বিসর্জনে বিলম্ব এড়াতে ডাকবাংলো তেমাথায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন নিত্যভূষণ দে।

আগামী ২১ ও ২২ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সদরঘাটে বন বিভাগ বালি, পাথরের খোয়া, ক্রাশার ডাস্ট ও লাল মাটি সরবরাহ করবে। বিসর্জনের জন্য মোটরবোট, উদ্ধারকাজে লঞ্চ, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফের দল, মেডিক্যাল টিম এবং পর্যাপ্ত পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে।

পুজোর দিনগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পুজো কমিটিকে বিসর্জনের কাজে সহায়তার জন্য অন্তত ১০ জন শ্রমিকের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। মণ্ডপে ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য পৃথকীকরণের উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন ও পুজো কমিটিগুলির সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গাপুজো ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধবভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *