৯ অক্টোবর : দক্ষিণ আফ্রিকায় আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণের বিরোধিতা করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার হিংসাত্মক রূপ নেয়। ডারবান ও জোহানেসবার্গের সোয়েটু এলাকায় অন্তত ২৪টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন কয়েকটি দোকানে লুটপাট চালানো হয়। পোর্ট এলিজাবেথেও আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডারবানে ১৪টি এবং সোয়েটুতে ১০টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। ডারবানে এক বিক্ষোভকারীকে মারধরের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ডারবানের চে গুয়েভারা রোডে অবস্থিত শরণার্থী গ্রহণকেন্দ্রকে ঘিরে বিক্ষোভের সূত্রপাত। বিক্ষোভকারীরা সেখানে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ বন্ধের দাবি জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ করে আবেদনকারীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। পরে বিক্ষোভ শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের কয়েকটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, জোহানেসবার্গের সোয়েটুর অরল্যান্ডো ওয়েস্ট এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্স অফিস বন্ধের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা মিছিল করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কয়েকটি দোকানে লুটপাট ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভ চলাকালে গুলির শব্দ শোনা গেলেও কারা গুলি চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পোর্ট এলিজাবেথের গকেবেরহা এলাকায় হোম অ্যাফেয়ার্সের শরণার্থী কার্যালয়ে অস্থায়ী পারমিটের জন্য শত শত আশ্রয়প্রার্থী জড়ো হন। তাঁদের আবেদন প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে প্রায় ৩০ জন বিক্ষোভকারী সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ওই এলাকাতেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালতের একটি রায়। গত জুলাইয়ে দেওয়া ওই রায়ে আশ্রয়ের আবেদন করার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়াগত বাধা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে আগে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াগত কারণে আবেদন করতে না পারা ব্যক্তিদেরও আশ্রয়প্রক্রিয়ায় প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়। এরপর বিভিন্ন শরণার্থী কার্যালয়ে আবেদনকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে।



