মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান শিলচরে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ অক্টোবর : মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও আইনগত পরিষেবা সংস্থাগুলিকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে শিলচরে অনুষ্ঠিত এক সচেতনতা কর্মসূচিতে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তারা।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় শিলচরের লাইফলাইন হেল্পিং-হ্যান্ড সোসাইটি-র প্রাঙ্গণে কাছাড় জেলা আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে জাতীয় আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষের “ড্রাগ অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ওয়েলনেস ন্যাভিগেশন—ফর আ ড্রাগ ফ্রি ইন্ডিয়া” (ডিএডব্লিউএন) প্রকল্প, ২০২৫-এর আওতায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কাছাড় জেলা আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সুতপা ভূষণ, এজেএস-এর নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব, ইফতিকার আলম বড়ভুঁইয়া এবং কাউন্সিলার ধীরেন্দ্র শুক্লবৈদ্য ও জায়েদ লস্কর।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব বলেন, মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তির জীবনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের উপরও। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শদান ও পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়াও জরুরি।

তিনি সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে আইনগত পরিষেবা সম্পর্কেও অবহিত করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অর্থের অভাবে কোনো ব্যক্তি যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই উদ্দেশ্যেই আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা। আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৮৭-এর অধীনে নির্ধারিত যোগ্যতার অধিকারী ব্যক্তিরা বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ ও সহায়তা পেতে পারেন।

তিনি জানান, আইনের নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতির সদস্য, নারী ও শিশু, মানব পাচার বা জোরপূর্বক শ্রমের শিকার ব্যক্তি, মানসিকভাবে অসুস্থ বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দুর্যোগ বা সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, শিল্পশ্রমিক, হেফাজতে থাকা ব্যক্তি এবং নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা এই পরিষেবা পাওয়ার জন্য যোগ্য হতে পারেন। এছাড়াও আইন অনুযায়ী নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্য ব্যক্তিরাও বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রাখেন।

ধর্মানন্দ দেব বলেন, মাদক সংক্রান্ত কোনো মামলা বা অন্য আইনগত সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্য আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলে এবং আইনের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে থাকলে জেলা আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা নিতে পারেন। তিনি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে জেলা আইনগত পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

ইফতিকার আলম বড়ভুঁইয়া তাঁর বক্তব্যে মাদকাসক্তির পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষতির দিক তুলে ধরেন। তিনি তরুণদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও বিভিন্ন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার উপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, পরিবারের সঙ্গে সন্তানের নিয়মিত যোগাযোগও মাদকাসক্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কাউন্সিলার ধীরেন্দ্র শুক্লবৈদ্য বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা তৃণমূল পর্যায়ে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার মোকাবিলা কঠিন। একইভাবে কাউন্সিলার জায়েদ লস্করও যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, মাদক সমস্যার মোকাবিলায় শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক সচেতনতা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে উপস্থিতদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি নিজেদের পরিবার ও আশপাশের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানানো হয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে—এই বার্তাকে সামনে রেখেই কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *