বরাক তরঙ্গ, ৬ অক্টোবর : লোকসংস্কৃতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি, তার ঐতিহ্য, তাৎপর্য ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে এক মনোজ্ঞ বক্তৃতা অনুষ্ঠান এবং ‘নৈর্ঋত’ প্রাচীর পত্রিকা উন্মোচন অনুষ্ঠিত হলো সরকারি আদর্শ কলেজে, বড়খলায়। মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি ও মুখ্য বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রমাকান্ত দাস, মহাবিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক গণ, অশিক্ষক কর্মচারীরা ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলন ও উদ্বোধনী সঙ্গীত ‘আমার মাথা নত করে দাও’ পরিবেশনের মাধ্যমে । এরপর এ দিনের মুখ্য অতিথিকে যথাযথ মর্যাদায় বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. মধুমিতা ঘোষ। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় চেতনার বিকাশে ‘বন্দেমাতরম’-এর ভূমিকা এবং এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য আলোচনায় উঠে আসে। আলোচনার পর পরিবেশিত হয় ‘বন্দেমাতরম’ গান, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে দেশাত্মবোধ ও আবেগে মুখরিত করে তোলে।

এরপর কলেজের অধ্যক্ষ তাঁর ভাষণে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ, চর্চা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি প্রফেসর রমাকান্ত দাস ‘বর্তমান সময়ে লোকসংস্কৃতি চর্চার গতিপ্রকৃতি’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তব্য রাখেন। তিনি বিশ্বায়ন, প্রযুক্তির প্রসার এবং পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে লোকসংস্কৃতির রূপান্তর ও চর্চার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করেন। একই সঙ্গে লোকঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি তার পরিবর্তনশীল ধারাকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক গণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বক্তৃতা অনুষ্ঠান এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মহাবিদ্যালয়ের প্রাচীর পত্রিকা ‘নৈর্ঋত’-এর আনুষ্ঠানিক উন্মোচন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতার প্রকাশ ঘটেছে এই প্রাচীর পত্রিকায়। উন্মোচনের পর পত্রিকাটির বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মৌসোনা নাথ। এ বছরের পত্রিকার বিষয়বস্তু ছিল ‘বন্দেমাতরম’ এর সার্ধশতবর্ষ এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মের সার্ধশতবর্ষ।সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল জ্ঞানচর্চা, লোকসংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক সুন্দর সমন্বয়, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে উৎসাহ ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সাফল্যমন্ডিত করে তোলার জন্য বাংলা বিভাগের পক্ষ থেকে ড. মৌসোনা নাথ ও ড. মধুমিতা ঘোষ সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।



