বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : অরুণাচল প্রদেশের প্রস্তাবিত ছিয়াং বহুমুখী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আপার ছিয়াং জেলা। সোমবার প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে পরিস্থিতি হিংসাত্মক রূপ নেয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি এলাকায় থাকা একাধিক সরকারি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য সরকারের শুরু করা জরিপ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল। জরিপ অবিলম্বে বন্ধ করা এবং প্রকল্পের কারণে সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার দাবিতে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে আসছিল।
পরিস্থিতি শান্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু আজ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘ছিয়াং খিলঞ্জীয়া কৃষক মঞ্চ’ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। সংগঠনটির বক্তব্য, বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। তাই ১১ অক্টোবরের পর আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যেই সোমবার রাস্তায় নেমে আসেন বিক্ষোভকারীরা। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে অভিযোগ। এরপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর শিবিরে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু ফের স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমানে যে জরিপ চলছে তার অর্থ এই নয় যে বাঁধ নির্মাণ শুরু হয়ে গেছে কিংবা সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই পর্যায়ে মূলত পাথর ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে প্রকল্পটির কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এখনও কোনো কৃষিজমি বা বনাঞ্চল অধিগ্রহণ করা হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি কারিগরিভাবে সম্ভাব্য হলেও সামাজিক প্রভাব সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরির মতো একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত জানতে গণশুনানিও করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এসব আশ্বাসের মধ্যেই আপার ছিয়াংয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের মধ্যে সংঘাত এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



