ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নাকচ পুতিনের

Spread the news

২ অক্টোবর : ইউক্রেনের সঙ্গে দূরপাল্লার হামলা বন্ধে পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ভূখণ্ড কালিনিনগ্রাদ সরাসরি আক্রান্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের অস্ত্র, এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার মস্কোয় ভালদাই ফোরামে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, রাশিয়াকে বলা হচ্ছে—তারা যদি ইউক্রেনের তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করে, তাহলে রাশিয়াও ইউক্রেনের জাহাজে হামলা বন্ধ করবে। তাঁর ভাষায়, এমন প্রস্তাব ‘হাস্যকর’।

পুতিনের এই বক্তব্য আসে গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বৈঠকের পর। ওই বৈঠকে জেলেনস্কি বলেছিলেন, রাশিয়াও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করলে কিয়েভ রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত।

পুতিন বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। তবে এসব হামলার জবাব রাশিয়া দিচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার দূরপাল্লার হামলা অব্যাহত রাখার অবস্থানও স্পষ্ট করেন পুতিন।

এদিকে কালিনিনগ্রাদ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে পুতিন বলেন, রাশিয়ার এই ভূখণ্ড সরাসরি আক্রান্ত হলে দেশটির হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে। এর আগে রাশিয়া ন্যাটোকে দেওয়া এক কূটনৈতিক নোটেও কালিনিনগ্রাদ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা হলে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তে অবশ্য বলেছেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ন্যাটো ভূখণ্ডের জন্য তাৎক্ষণিক কোনও হুমকি নেই।

পুতিন আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখান থেকে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন সংকটের সমাধানে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স। খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *