২৪ সেপ্টেম্বর: উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘোরানোর নাম করে হরিয়ানার এক তরুণীকে খামারবাড়িতে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুই উত্তরপ্রদেশ পুলিশকর্মী এবং দুই সিআরপিএফ জওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর এক পরিচিত মহিলার মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে সিআরপিএফ ইন্সপেক্টর মোহিতের যোগাযোগ হয়। তাঁকে আমরোহায় ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২১ সেপ্টেম্বর সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁরা মিরাটে যান। সেখানে সিআরপিএফ হেড কনস্টেবল লালরাম যাদব তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
পরদিন সন্ধ্যায় মোহিত ও লালরাম ওই তরুণীকে গাড়িতে করে হাসানপুরে নিয়ে যান। পথে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমার। অভিযোগ, তাঁরা তরুণীকে হাসানপুরের একটি খামারবাড়িতে নিয়ে গিয়ে দুটি ঘর ভাড়া নেন। সেখানে পুলিশ হেড কনস্টেবল প্রমোদের মাধ্যমে খাবার ও মদের ব্যবস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।
তরুণীর অভিযোগ, খামারবাড়িতে মোহিত, লালরাম ও সঞ্জয় তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে প্রমোদ ঘরে ঢুকে তাঁর ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। ভোরে মোবাইল থেকে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে হাসানপুর ও রাজাপুর থানার যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর অপহরণ ও গণধর্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমারকে বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুই সিআরপিএফ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।
হাসানপুর কোতোয়ালি ইন-চার্জ অমর পাল সিং জানান, যে খামারবাড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়কের। খামারবাড়ির ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।



