১৮ আগস্ট : দিল্লির বুরারি এলাকায় ফের সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সুটকেসের ভিতর থেকে উদ্ধার হলো ১৫ বছরের এক নাবালিকার দেহ। এই ঘটনায় তাঁরই এক তুতো ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ওই কিশোরীর একটি সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের আপত্তি ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে খুনের নেপথ্যে এটাই একমাত্র কারণ কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সোমবার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে সুটকেস নিয়ে যেতে এবং পরে সুটকেস ছাড়াই ফিরে আসতে দেখে এক ব্যক্তির সন্দেহ হয়। জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে মোটরবাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিল একটি সুটকেস। পরে যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন তাঁর সঙ্গে আর সুটকেসটি ছিল না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হতেই সামনে আসে আসল ঘটনা।
এর পরে বিশেষ পুলিশ দলের সদস্যরা অভিযুক্তের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু করেন। উত্তর দিল্লির মুকুন্দপুরের বাসিন্দা অবিনাশ নামে ওই ব্যক্তিকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে তিনি তাঁর দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে খুনের কথা স্বীকার করেন এবং দেহ কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই জায়গাটিও দেখিয়ে দেন।
অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বুরারির অজিত বিহার এলাকায় পৌঁছয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় সুটকেস। তার ভিতরে ছিল ওই ১৫ বছরের কিশোরীর দেহ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, কিশোরী সম্প্রতি বিহার থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন। পরিবারের তরফে তাঁকে এক যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন অভিযুক্ত। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই যুবকের সঙ্গে কিশোরীর সম্পর্ক ছিল এবং পরিবার সেই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিল। পরিবারের সদস্যরা অবিনাশকে কিশোরীর উপর নজর রাখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ, পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও কিশোরী ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অবিনাশ তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রবিবারই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে অভিযুক্তের বয়ান এখনও যাচাই করা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্ণক্রম খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এ দিকে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। কিশোরীর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও কী ভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি তাঁর উপর কোনও যৌন নির্যাতন হয়েছিল কি না, সেটিও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



