মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগের পর মুখ খুলেন কাটিগড়া সার্কল কার্যালয়ের বড়বাবু, বললেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া। 
বরাক তরঙ্গ, ৩ অক্টোবর : কাছাড় জেলার কাটিগড়া সার্কল কার্যালয়ের সেটেলমেন্ট শাখার ইনচার্জ তথা সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট (বড়বাবু) বিমলকুমার ধরের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা পম্পিরানি দে-র করা অভিযোগকে ঘিরে নতুন করে সরগরম হয়েছে প্রশাসনিক মহল। দিন দুয়েক আগে পম্পিরানি দে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে সেই অভিযোগের বিষয়বস্তু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এবার নিজের বক্তব্য নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন বিমলকুমার ধর।

বিমল কুমার ধরের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার প্রকৃত চিত্র সরকারি নথিপত্র ও পূর্বে সম্পন্ন হওয়া জমির ডিমার্কেশন প্রক্রিয়া যাচাই করলেই স্পষ্ট হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর গত বছর কাছাড় জেলার তৎকালীন জেলাশাসকের উদ্যোগে পম্পি রাণী দে-র বাড়ির জমির সীমানা নির্ধারণ বা ডিমার্কেশন করা হয়েছিল। তবে সেই ডিমার্কেশন একবারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই জমির সীমানা একাধিকবার নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বিমল ধরের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ডিমার্কেশনের সময় জমির সীমানা নির্ধারণের গোটা প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হয়। তাঁর দাবি, ডিমার্কেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সীমানা নির্ধারণ সঠিক হয়েছে – এমন মর্মে পম্পিরানি দে নিজেই স্বাক্ষর করেছিলেন। ফলে পরবর্তীতে একই জমির সীমানা নিয়ে পুনরায় অভিযোগ ওঠায় তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিকে, বিমল কুমার ধর আরও দাবি করেন, পম্পিরানি দে-র বিরুদ্ধে সরকারি জমির একটি অংশ দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, জমির মালিকানা, সীমানা এবং সরকারি জমি সংক্রান্ত যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখলে গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
নিজের ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিমল ধর বলেন, “আমি অফিসিয়াল কাজ করি, জমির ডিমার্কেশন করি না। এই কাজ এলআর স্টাফরা করেন।” তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধটি নতুন নয়, বরং গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে টানাপোড়েন চলে আসছে। সেই সময়কালে কাটিগড়া সার্কল কার্যালয়ের সেটেলমেন্ট শাখায় দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও পরিবর্তিত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিমল ধরের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে তাঁকে বর্তমান সময়ে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। বরং জমির মূল নথি, ডিমার্কেশন রিপোর্ট, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং সর্বশেষ ডিমার্কেশনের সময় ধারণ করা ভিডিওগ্রাফি খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।

এদিকে, জানা গিয়েছে, গত বছর জমির ডিমার্কেশনের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রী ড° হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবেদন জানান পম্পি রানী দে। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী কাছাড়ের তৎকালীন জেলা আয়ুক্ত মৃদুল কুমার যাদবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পরবর্তীতে একটি বিশেষ দলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমির ডিমার্কেশন করা হয়। ডিমার্কেশন প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফিও করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে ডিমার্কেশনের ভিডিও ক্লিপসহ সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট কাছাড়ের জেলা আয়ুক্তের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।এদিকে চৌরঙ্গি এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট মহিলার মূল লক্ষ্য সত্যনারায়ণ মন্দিরের জমিটি নিজের দখলে নেওয়া।

এদিকে, বিমল বাবু সবশেষে জানান, প্রয়োজনে জেলাশাসকের অনুমতি নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মানহানির আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *