বিক্ষোভের আশঙ্কা? মহারাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাবর্তনের অতিথি তালিকা থেকে বাদ প্রধান বিচারপতির নাম!

Spread the news

১৮ আগস্ট : মহারাষ্ট্রের এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে (CJI Surya Kant)। কিন্তু আচমকাই সেই সমাবর্তন উৎসব স্থগিত করা হয়। তবে অবশেষে সমাবর্তনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রধান অতিথির তালিকা (Chief Guest) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রধান বিচারপতিকে।

জানা গিয়েছে, গত ২ অগাস্ট টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ৮৬তম সমাবর্তন (TISS Convocation) হওয়ার কথা ছিল, যেখানে প্রধান অতিথি হওয়ার সম্মতি জানিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র দু’দিন আগে, ৩১ জুলাই গভীর রাতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে হঠাৎ করেই সমাবর্তন স্থগিত করে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে সেই নোটিশে সমাবর্তন স্থগিত করার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ ছিল না।

সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। মূল কারণ ছিল, অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বিশিষ্ট অতিথিদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের একাংশের সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কা। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জোর ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। এসবের মাঝেই টিআইএসএস (TISS) কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের দিনক্ষণ বদলানোর পাশাপাশি এবার প্রধান অতিথির তালিকা থেকেও বাদ দিয়ে দিল প্রধান বিচারপতির নাম। পরিবর্তে নতুন প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডিরেক্টর ড. সিএস প্রমেশকে।

উল্লেখ্য, একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে হায়দরাবাদের নালসার (NALSAR) আইন বিশ্ববিদ্যালয়েও। সেখানেও প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাকার বিরোধিতা করে প্রতিবাদে নামেন। ঘটনাচক্রে, নালসারের শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের পর বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার (BCI) চেয়ারম্যান প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিলে তার তীব্র সমালোচনা করেন খোদ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘এটি আমার ও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে বার কাউন্সিলের হস্তক্ষেপের কোনও ভূমিকা নেই। প্রতিবাদ করার অধিকার শিক্ষার্থীদের রয়েছে।’ পরবর্তীতে বার কাউন্সিল নিজেদের নির্দেশ বাতিল করে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। মূলত যুব সমাজকে নিয়ে করা প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন যে, তাঁর মন্তব্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তবুও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে ছাত্রমহলে বিক্ষোভের রেশ এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *