মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ অক্টোবর : সীমান্তঘেঁষা শ্রীভূমি জেলার লোয়াইরপোয়া রেঞ্জের অন্তর্গত রাঙ্গামাটি বিটে মূল্যবান বনজ সম্পদ নিধন ও অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটি এলাকার বিভিন্ন অংশে সেগুন, শাল-সহ মূল্যবান গাছ কেটে কাঠ পাচার করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এমনকি বিট অফিসের আশপাশেও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।
বিট অফিসের আশপাশে সেগুন-শাল গাছ কাটার অভিযোগ, বনকর্মীদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের একাংশ কর্মীর ভূমিকা নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক ও কয়েকজন বনকর্মীর সঙ্গে কথিতভাবে কাঠ পাচারকারীদের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতেই বনজ সম্পদ লুট চলছে বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশপ্রেমী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিট অফিস সংলগ্ন এলাকায় কাটা সেগুন গাছের ছবি, ঘটনাস্থলের GPS লোকেশন-সহ বিভিন্ন তথ্য ইতিমধ্যেই বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ওই তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করা হলে কাটা গাছের প্রজাতি, সংখ্যা, কাঠের পরিমাণ এবং গাছ কাটার বৈধ অনুমতি ছিল কি না, তা যাচাই করা সম্ভব।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কিংবা কখনও দিনের বেলাতেও ছোট-বড় যানবাহনে করে কাটা কাঠ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, বিট অফিসের এত কাছে যদি গাছ কাটা ও কাঠ পরিবহণের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে নিয়মিত নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্মীদের নজরে তা এল না কেন?
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, বিষয়টি শুধু বনজ সম্পদ চুরির অভিযোগ নয়; এর সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যও জড়িত। দীর্ঘদিনের পুরনো সেগুন ও শাল গাছ কেটে ফেলার ফলে বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কাটা গাছের উৎস, কাঠের গন্তব্য, পরিবহণের বৈধ নথি, সংশ্লিষ্ট করাতকল ও কাঠ ব্যবসার সঙ্গে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—সবই তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে গত কয়েক বছরের বন অপরাধের মামলা, কাঠ জব্দের নথি, গাছ কাটার অনুমতিপত্র, বিট ডায়েরি, টহল রেজিস্টার এবং কাঠ পরিবহণের নথি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রয়োজনে পুরনো ও বর্তমান বনভূমির মানচিত্র এবং স্যাটেলাইট ছবি তুলনা করে বৃক্ষচ্ছেদের পরিমাণ নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে শ্রীভূমি জেলা বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হোক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং বনভূমিতে পুনরায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।
রাঙ্গামাটি বিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, লোয়াইরপোয়া রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বা শ্রীভূমি জেলা বন বিভাগের ডিএফও-র বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে রাঙ্গামাটি বিটে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।



