বরাক তরঙ্গ, ২৭ জুলাই, সোমবার,
অসম বিধানসভার চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরীর উত্থাপিত অভিযোগ নতুন করে ভারতমালা সড়ক প্রকল্পকে জনআলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রকল্পের নির্মাণমান, ব্যয়ের স্বচ্ছতা, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া এবং প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার কথিত অনিয়মের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব অভিযোগের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই, কারণ বিষয়টি একটি বৃহৎ জাতীয় অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো জনগণের উদ্বেগ ও অভিযোগ আইনসভায় তুলে ধরা। একইভাবে সরকারের দায়িত্ব হলো সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যভিত্তিক তদন্ত নিশ্চিত করা। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যেমন ন্যায়সঙ্গত নয়, তেমনি গুরুতর অভিযোগকে এড়িয়ে যাওয়াও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো সত্য উদ্ঘাটনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত।
ভারতমালা প্রকল্প উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের সাফল্য শুধু নতুন সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরকারের উন্নয়ন নীতি ও প্রশাসনিক সক্ষমতারও প্রতিচ্ছবি। ফলে নির্মাণের মান, ব্যয়ের হিসাব কিংবা জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলে।
বিধায়কের অভিযোগে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের ধীরগতি, ব্যয়ের অস্পষ্টতা এবং জমির শ্রেণিবিভাগে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ যদি ভিত্তিহীন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তথ্য-প্রমাণসহ তা জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। আর যদি তদন্তে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই এ ধরনের বিতর্কের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।



