বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বিরোধী দলনেতা ও বিধায়করা, ত্রাণে স্বচ্ছতা ও দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নিতে শিবসাগর ও নাজিরা সফর করেন অসম বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরীসহ কংগ্রেসের একাধিক বিধায়ক। সফরকালে প্রতিনিধিদল বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্ভোগ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

পরিদর্শনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেকে ত্রাণ শিবির কিংবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। কৃষিজমি, মৎস্যচাষ, গবাদিপশু ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয়জল, খাদ্য, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দুর্গত বাসিন্দারা প্রতিনিধিদলকে জানান, বন্যায় তাঁদের ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অধিকাংশ পরিবার এখন সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। শিশু, নারী ও প্রবীণদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।

বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় দ্রুত নৌকা, চিকিৎসা দল, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
প্রতিনিধিদল স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ আরও গতিশীল করার আহ্বান জানায়। সফর শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্যা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক সংকট। তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। একইসঙ্গে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত পুনর্বাসন ও কার্যকর বন্যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্গত মানুষ আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, উজান অসমের বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দ্রুত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, কৃষকদের ক্ষতিপূরণ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা, ভেঙে পড়া রাস্তা-সেতু ও বাঁধের দ্রুত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *