শেষ মুহূর্তের গোলে ইতিহাস, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে কানাডা

Spread the news

২৯ জুন : নির্ধারিত সময় শেষ হতে তখন আর কয়েক মুহূর্ত বাকি। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই অধিনায়ক স্তেফেন ইউস্তাকিওর দুর্দান্ত গোলে জয়ের উল্লাসে ভাসে কানাডা। রাউন্ড অব-৩২-এর ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে উত্তর আমেরিকার দেশটি।

শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় কানাডা। ১ মিনিটে ইউস্তাকিওর কর্নার থেকে জোনাথন ডেভিডের ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর ২২তম মিনিটে ডেরেক কর্নেলিয়াসের হেডও রুখে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস।

প্রথমার্ধের শেষদিকে একের পর এক আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে চাপে রাখে কানাডা। ৪৪তম মিনিটে মইস বোম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন খুলিসো মোদিবা। ফিরতি বলে রিচি লারিয়ার শটও দারুণভাবে প্রতিহত করেন উইলিয়ামস। যোগ করা সময়ে পেনাল্টির দাবি তুললেও রেফারি ও ভিএআর—দু’পক্ষই তা নাকচ করে দেয়। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে কানাডা। ৬৪তম মিনিটে তানি ওলুওয়াসেয়ির নিশ্চিত গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন সিয়াবোঙ্গা এমবোকাজি। ৭৫তম মিনিটে আলফোনসো ডেভিস মাঠে নামার পর কানাডার আক্রমণ আরও তীব্র হয়। তবে উইলিয়ামসের অসাধারণ গোলকিপিংয়ে বারবার হতাশ হতে হয় কানাডাকে।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ৮৫ মিনিটে ওসউইন অ্যাপোলিসের দূরপাল্লার শট সহজেই সামাল দেন কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়ে এক টাচে দুর্দান্ত শটে জালের নিচের বাঁ কোণ খুঁজে নেন কানাডার অধিনায়ক স্তেফেন ইউস্তাকিও। উইলিয়ামসের পক্ষে সেই শট রোখা সম্ভব হয়নি।

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে কানাডার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ইউস্তাকিওর একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়ে কানাডা। ১৯৮৬ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেললেও এবারই প্রথম শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল দলটি।

পরিসংখ্যানেও ছিল কানাডার স্পষ্ট আধিপত্য। পুরো ম্যাচে তারা ১৪টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ৬টি শট নিতে সক্ষম হয়। শেষ ষোলোতে কানাডার প্রতিপক্ষ হবে মরক্কো অথবা নেদারল্যান্ডস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *