প্রবল বৃষ্টিতে ভেসে গেল লোহার সেতু, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ; বন্যায় আটকে বহু মানুষ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুন : অসম-অরুণাচল সীমান্তবর্তী এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির জেরে খরস্রোতা কেমি নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় কেমি নদীর উপর নির্মিত কেমি–জেলম সংযোগকারী লোহার সেতুটি প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এর ফলে কেমি–পুরণা জেলম এলাকার সঙ্গে জোনাই সদর শহরের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ এই লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি ভেসে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রী-সহ হাজারেরও বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। দৈনন্দিন যাতায়াত, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “কেমি নদীর প্রবল স্রোতে লোহার সেতুটি ভেসে গেছে। আমরা বারবার বিধায়কের কাছে একটি পাকা সেতুর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রায় দুই বছর আগে একটি ছোট লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। এখন সেটিও ভেসে যাওয়ায় চার-পাঁচটি গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারবে না, অথচ সোমবার থেকেই পরীক্ষা শুরু।”

অন্যদিকে, দিখারি নদীর বন্যাও জোনাইয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তেলাম করৈবারী এলাকার একটি চর হঠাৎ জলবন্দি হয়ে পড়েছে। নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সেখানে ১৫ জনেরও বেশি মানুষ আটকে পড়েছেন। চারদিক বন্যার জলে প্লাবিত হওয়ায় তারা নিরাপদ স্থানে যেতে পারছেন না। স্থানীয়রা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উদ্ধারকাজে SDRF মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, অরুণাচলের পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা লেকু নদীর বন্যাও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় লেকু এলাকার ৫১৫ নম্বর চার লেন জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে জল প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে অসম–অরুণাচল সীমান্তবর্তী বহু পরিবারের বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে লেকু নদীর জলস্তর এখনও বাড়ছে।

অপরদিকে, সীমান্তবর্তী অয়ান নদীতেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় নদীর বুকে থাকা দুটি ধাবা ডুবে যায়। সেখানে দুই মহিলাসহ মোট ছয়জন আটকে পড়েন। খবর পেয়ে অরুণাচল প্রদেশের রুকসিন ও পাসিঘাটের SDRF, জোনাইয়ের SDRF, দুই রাজ্যের পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালান। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আটকে পড়া সকলকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *